আপনাদের বলে নিই, ভোট আমি করতে জানি। ভোট আমি করাতে জানি। আজ আমি বলে যাচ্ছি, এমন মার্জিনে নন্দীগ্রামে বিজেপি জিতবে যেটা কেউ কখনও কল্পনা করতে পারেনি। বাকীটা সময় কথা বলবে। আমাকে হারাতে এসেছিল। হারিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছি। এবার গঙ্গা পেরিয়ে ওঁর পাড়াতে ঢুকে হারিয়ে এসেছি।’ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথের সমর্থনে মিছিল থেকে এভাবেই বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ।
বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই মধ্যমগ্রামে গাড়ির মধ্যেই খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী সেই চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ। তাঁর মনোনয়ন জমা দাখিলে হলদিয়ার কদমতলা থেকে হেঁটে এসডিও অফিস পর্যন্ত গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তার আগে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নন্দীগ্রামে এবার যে মার্জিনে জিতব তা আপনারা ভাবতেও পারবেন না। পাশাপাশি স্মরণ করলেন একসময়ের সঙ্গী চন্দ্রনাথকেও। মঙ্গলবার হলদিয়ার কদমতলায় এক ছোট সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমাকে প্রভুত সাহায্য করেছিল একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী, চন্দ্রনাথ রথ। নন্দীগ্রামের প্রার্থী চন্দ্রর মাতৃদেবীও বটে।
চন্দ্রকে নৃশংসভাব খুন করা হয়েছে। চন্দ্রর সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল তিনি বিরোধী দলনেতাকে সহযোগিতা করতেন। তাই তাকে অকালে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ চন্দ্রনাথের মায়ের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রার্থীকে গাড়িতে যাওয়ার জন্য বলব। সঙ্গে যাবেন এই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা জ্যোতির্ময় সিং মাহাত, সৌমেন্দু অধিকারীরা। আমরা পায়ে হেঁটে এসডিও অফিস পর্যন্ত যাব। দ্রুত মনোনয়ন শেষ করব। কারণ বাইরে বিরাট দাবদাহ।’ তিনি নিজে ২০২৬ সালের বিধানসভায়নের নন্দীগ্রাম আসন থেকে জিতে পদত্যাগ করলেও ম্যাচের বিজেপি সরকারের আমলে নন্দীগ্রামের মানুষ কোন উন্নয়নের কাজ বঞ্চিত হবেন না হলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনারা বিপুল জয় এনে দিয়েছেন। সরকার তৈরি হয়েছে। মাত্র ৪ মাস সরকার কাজ করেছে। আরও ৫৬ মাস ধরে মানুষের সংকল্প পূরণ করব।
যেদিন আমি তমলুকের সাংসদের পদ থেকে সরে গিয়েছিলাম সেদিন পরিষেবা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। কিন্তু আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে অভাব বুঝতে দিইনি। নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার দায়িত্ব আমরা। আমরা সেই কমিটমেন্ট আবার নন্দীগ্রামের জনগণকে দিতে চাই। নন্দীগ্রামের জেল খাটা কেস খাওয়া প্রতিটি নেতাকে এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, আপনাদের সসম্মানে মর্যাদা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমরা। সেটা আমি করব। নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দায়িত্ব আমার। নন্দীগ্রামের মানুষের পেটে ভাত, হাতে কাজের দায়িত্ব আমার। ইতিমধ্যেই ৬৭ হাজারর মা ও দিদিতে অন্নপূর্ণার টাকা পাঠানোর কাজ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির টাকা দেওয়াও শুরু হয়েছে। এতদিন যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা পূরণ করা হবে। এটা শুভেন্দু অধিকারীর কমিটমেন্ট।’
রেকর্ড ভোটে জেতার দাবি
আজ দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নাম ঘোষণার আগেই তাঁর কাছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রীর তরফে খবর চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন হাসি রানি রথ। আর সেই কারণেই বিজেপির তরফে সরকারি ভাবে ঘোষণা করার আগেই নন্দীগ্রামের পথে পথে হাসি রানী রথের নামে পোস্টার পড়ে গিয়েছে গত কয়েকদিন ধরেই। আর উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর কাছে চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর আশা পূরণ করা। আজ নন্দীগ্রামের জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে হাসিমুখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হাসি রাণী রথ বলেন, ‘বিজেপির কেন্দ্র এবং রাজ্য আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন।
নন্দীগ্রামের সমস্ত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, নন্দীগ্রামের সংগঠন ছাড়া কোনওদিনই কোন জায়গায় একা কেউ জিতে আসতে পারে না। সমস্ত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমি চেষ্টা করব যাতে আমরা লক্ষাধিক ভোটে জিততে পারি।’ এদিন পুজো দিয়ে বেরিয়ে সে কথাই জানালেন তিনি। হাসি রানীর কথায়, ‘আমাদের মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র, তিনি যেটা চাইছেন, সেটা যাতে আমরা সেই আশা পূরণ করতে পারি, মোদিজির স্বপ্ন পূরণ করতে পারি, সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাব। আমি প্রার্থনা করেছি যাতে মুখ্যমন্ত্রীর আশা যেন পূরণ করতে পারি এবং নন্দীগ্রামবাসীর আশা যেন পূরণ করতে পারি। আমরা আশাবাদী বিজেপি নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জিতবে।’














