মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চলেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। রাজপথে আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ জানাতে চান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। সেই উদ্দেশ্যে বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে জানানো হয়েছে রাহুল গান্ধী মল্লিকার্জুন খাড়্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অখিলেশ যাদব ওমর আবদুল্লা শরদ পাওয়ার এম এ বেবি তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের প্রধানরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান। তবে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই চিঠির কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। ফলে বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের আবেদনে রাষ্ট্রপতির দফতর কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর পদত্যাগ এবং অপসারণের দাবি জানিয়ে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
মিছিল নির্বাচন সদনের কাছাকাছি পৌঁছতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয়। এরপর সেখানেই বিক্ষোভ শুরু হয়। লাউডস্পিকার হাতে ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মহুয়া মৈত্র-সহ কয়েকজন সাংসদকে আটক করে পুলিশ। যদিও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আকাশবাণী ভবনের দিকে এগিয়ে যান রাহুল। সেখানে পুলিশ বাধা দিলে ভবনের সামনে গাছতলায় বসেই ধর্না শুরু করেন তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতা। রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান চলে। পুলিশ পরে রাহুল প্রিয়াঙ্কা ডেরেক-সহ কয়েকজনকে আটক করে।
এই পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়া। বিরোধী শিবিরের দাবি নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের যে অভিযোগ রয়েছে তা রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে তারও বিস্তারিত খতিয়ান রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল মঙ্গলবার বলেন তাঁরা তাঁদের দাবিতে অটল। গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বুধবার দিল্লি-সহ দেশের পাঁচটি শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে বিরোধী জোট। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন গৃহীত হলেও এখনও সময় নির্ধারিত হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি ভবনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বিরোধী শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি মিললে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিরোধীদের আন্দোলন আরও নতুন মাত্রা পেতে পারে।














