সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের পরে ফের প্রথম দফায় গৃহীত হলো নবম দশম শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য এসএসসি পরীক্ষা। সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল কোনরকম ভাবেই অযোগ্য বলে চিহ্নিত পুরনো চাকরি প্রাপকদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু তারপরেও আবার সেই দাগি অযোগ্যদের মধ্যে এক শ্রেণীর পরীক্ষার্থী নতুন পরীক্ষায় বসেছেন বলে বিষ্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রাজ্যে যখন বহু প্রতীক্ষিত এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ঠিক তার আগেই শনিবার রাতে আসানসোলে এসে তিনি এই পরীক্ষাটিকে ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেন এবং বলেন এর ফল ‘অশ্বডিম্ব’ ছাড়া কিছুই হবে না।
আসানসোলের একটি হোটেলে দলের বুথ লেভেলের নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এটা একটা ত্রুটিযুক্ত পরীক্ষা। ১৯৫৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দাগী, তাদের মধ্যে ১৮০৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ১৫২ জন দাগীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়ও আছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়েছে। সেন্টার পিছু অর্থের বিনিময়ে তৃণমূল কর্মীরা পুলিশকে সাথে নিয়ে নয় বছর পর একটি প্রহসনের পরীক্ষা করতে চলেছে। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলের লোকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ৯ বছর পরে একটা প্রহসনের পরীক্ষা করছে।
এর ফল অশ্বডিম্ব হবে। শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার এবং এসএসসির সর্বরকম প্রস্তুতির পরে পরীক্ষা হচ্ছে। সেটাকে ভেস্তে দেওয়ার একটা ষড়যন্ত্র নানাভাবে হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি ‘অতি নিম্নশ্রেণির রাজনীতি’ এবং শুভেন্দু অধিকারী মিথ্যা অভিযোগ এনে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসএসসির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি জানিয়েছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি এবং শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অভিযোগের কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি।
এসএসসি ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার জামিন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এদেরকে জেলেই রাখতে হবে এবং এই মামলাগুলোকে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এখানে জেলে থাকলেও তারা উডবার্ন ওয়ার্ডে যাবে এবং অষ্টমী বা রবিবারেও লুচি, ছোলার ডাল, খাসির মাংস খাবে। এছাড়াও আব্বাস সিদ্দিকী ও ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়েও তিনি বলেন, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমাটি সবার মোবাইলে পৌঁছে যাবে এবং বাংলার কোটি কোটি মানুষ স্মার্টফোনে এই সিনেমা দেখবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জানা উচিত ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি গণহত্যায় কী ঘটেছিল।












