স্নায়ুর চরম পরীক্ষায় শেষ তীরে বাজিমাত করে ভারতীয় তিরন্দাজির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় লিখলেন ধীরাজ বোম্মাদেভরা। বিশ্বকাপ ফাইনালে জাপানের জুনিয়া নাকানিশিকে রুদ্ধশ্বাস শুট-অফে ১০-৯ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় পুরুষ রিকার্ভ তিরন্দাজ হিসেবে ঐতিহাসিক সোনা জিতলেন ২৫ বছর বয়সি এই সেনা তীরন্দাজ। টানা দুই বছর (২০২৩ ও ২০২৪) এই টুর্নামেন্ট থেকে খালি হাতে ফেরার আক্ষেপ তো মিটলই, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আসরে পুরুষদের রিকার্ভে ভারতের দীর্ঘ ১৬ বছরের পদক খরারও অবসান ঘটল।
২০১০ সালে এডিনবরায় জয়ন্ত তালুকদারের ব্রোঞ্জ জয়ের পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় পুরুষ তিরন্দাজ এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে পদক পেলেন, আর ধীরাজ সেই ইতিহাসকে রাঙিয়ে তুললেন সরাসরি সোনায়। ২০০৭ সালে দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যক্তিগত সোনা জয়ের ক্ষেত্রেও ধীরাজ হলেন দেশের দ্বিতীয় তিরন্দাজ। রবিবারের ফাইনালের চিত্রনাট্য ছিল আক্ষরিক অর্থেই যেকোনো থ্রিলারের চেয়েও টানটান। সেমিফাইনালে টোকিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মেতে গাজোজকে উড়িয়ে ফাইনালে ওঠা বিশ্বের ২০ নম্বর জাপানি তিরন্দাজ শুরু থেকেই চেপে ধরেছিলেন বিশ্ব ক্রমতালিকায় দশম স্থানে থাকা ধীরাজকে।
প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরালেও চতুর্থ সেটে নিখুঁত ৩০ স্কোর করে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান নাকানিশি, যেখানে ড্র করলেই খেতাব যেত জাপানের ঘরে। এমন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে অভাবনীয় মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন বিজয়ওয়াড়ার তরুণ। পঞ্চম সেটে ধীরাজ মাত্র দুই পয়েন্ট নষ্ট করে ২৮ তোলেন, আর স্নায়ুর চাপে নাকানিশি ২৭-এ আটকে গেলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৫। এরপর সাডেন-ডেথ শুট-অফের চূড়ান্ত মুহূর্তে ধীরাজের নিশানা খুঁজে নেয় পারফেক্ট ‘১০’, যার জবাবে নাকানিশির তির থামে ‘৯’-এ। গোটা প্রতিযোগিতা জুড়েই অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটেছেন ভারতীয় তারকা।
কোয়ার্টার ফাইনালে তুরস্কের বার্কিম তুমের এবং সেমিফাইনালে রিও অলিম্পিকের রুপোজয়ী ফরাসি তারকা জঁ-শার্ল ভালাদোঁ—উভয়কেই ৭-১ সেটে একতরফাভাবে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই ধীরাজের সামনে। বিশ্বকাপ ফাইনালে পাওয়া এই মহার্ঘ খেতাব সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি পাড়ি দিচ্ছেন জাপানে, আসন্ন এশিয়ান গেমসে ভারতীয় রিকার্ভ দলের নেতৃত্ব দিতে। হ্যাংঝৌতে দলগত রুপো এলেও ব্যক্তিগত বিভাগে কোয়ার্টারে থামতে হয়েছিল তাঁকে। এবার আর সাধারণ প্রতিযোগী হিসেবে নয়, ইতিহাস গড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলেই এশিয়ায় লক্ষ্যভেদ করতে নামবেন ধীরাজ।














