ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নতুন বছর আসলেও কলকাতার বাতাস থেকে মুক্তি পেল না বিষ। বর্ষবরণের রাতে দেদার বাজি পোড়ানো এবং পর্যটকদের গাড়ির দাপটে বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম দিনেই শহরের বায়ুদূষণ পৌঁছে গেল ‘খুব খারাপ’ স্তরে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, মহানগরীর একাধিক এলাকায় বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই ৩০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা। সবথেকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে। সেখানে একিউআই ছুঁয়েছে ৩৮০, যা প্রায় দিল্লির দূষণ পরিস্থিতির সমতুল্য।
বাতাসের এই চরম অবনতির জন্য বর্ষবরণের রাতে শব্দবিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজি পোড়ানোকেই দায়ী করছেন পরিবেশবিদেরা। গড়িয়া, টালিগঞ্জ থেকে বেহালা— শহরের সর্বত্রই গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে আতশবাজির দণ্ড। পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর মতে, শীতকালীন ‘এয়ার ইনভার্শন’-এর জেরে দূষিত কণাগুলো মাটির কাছাকাছি আটকে রয়েছে। আর্দ্রতা কম থাকায় ধূলিকণা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকছে। এর সঙ্গে বাজির ধোঁয়া মিশে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই বিষাক্ত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পর্ষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু যাদবপুর নয়, দূষণের কবলে কুপোকাত বিধাননগর ও বালিগঞ্জও। সেখানে একিউআই যথাক্রমে ৩৫৩ ও ৩৬১ রেকর্ড করা হয়েছে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও রবীন্দ্র ভারতী অঞ্চলেও দূষণ ৩০০-র উপরে। বিকেল গড়ালেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। ‘সবুজ মঞ্চ’-এর মতো পরিবেশ সংগঠনের অভিযোগ, আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার তোয়াক্কা না করে রাত ২টো পর্যন্ত বাজি ফেটেছে। যদিও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের একাংশের দাবি, গত বছরের তুলনায় বাজির দাপট কিছুটা কম ছিল। তবে দিনের শেষে তথ্যের হিসেবে স্বস্তির কোনো খবর নেই তিলোত্তমাবাসীর জন্য।













