ভারতীয় নৌসেনার শক্তি আরও বাড়াতে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্তরকে ঘিরে বড় চুক্তি করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজের জন্য ব্রহ্মস ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং লঞ্চার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে প্রায় ৬৬১.৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই চুক্তির ফলে নৌসেনার বিভিন্ন রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়বে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত।
সমুদ্রপথে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ভারতীয় নৌসেনার একাধিক যুদ্ধজাহাজে মোতায়েন রয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং লঞ্চার যুক্ত হলে সেই সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হবে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উৎপাদন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অন্তত ৬৮ শতাংশ সরঞ্জাম ভারতে তৈরি হতে হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিও উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শিল্পে কাজের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্তর ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। স্থলভূমি সমুদ্র এবং আকাশ থেকে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রের। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় এর ব্যবহার রয়েছে। ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের সময়ও ব্রহ্মস ব্যবহারের কথা উঠে এসেছিল।
শুধু দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেই নয় আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্রহ্মসের চাহিদা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এবং চুক্তি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী ফিলিপিন্সে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ব্রহ্মস ব্যবস্থা রফতানি করা হয়েছে। ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও ব্রহ্মস নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব।
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চুক্তির মূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে ব্রহ্মসকে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন রাজেশ কুমার সিং। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশের সঙ্গে ব্রহ্মস বিক্রির বিষয়ে চুক্তি বা সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামও সম্ভাব্য ক্রেতার তালিকায় রয়েছে। দেশের নৌসেনার জন্য নতুন চুক্তি এবং বিদেশে ব্রহ্মস রফতানির সম্ভাবনা একসঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিধি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন এবং নৌসেনার যুদ্ধক্ষমতা দুদিকেই জোর দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।














