আগামী বিধানসভা ভোটে শাসক দল তৃণমূল কিংবা প্রধান বিরোধী দল বিজেপি — কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। কলকাতায় দাঁড়িয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী, ২০২৬ সালে বাংলায় সরকার গড়তে তাঁর দলের সমর্থন ছাড়া গতি নেই কারও।
নিজের শক্তিপ্রদর্শনে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশ করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া এই বিতর্কিত নেতা। এর পাশাপাশি মমতাকে আক্রমণ এবং অভিষেকের প্রতি নরম মনোভাব দেখিয়ে জোড়াফুলের শীর্ষ নেতৃত্বে বিভাজন তৈরির কৌশলী চালও দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার হুমায়ুন সাফ জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন না। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে মন্দিরে যান, তবেই তিনি রাজনীতির ময়দান ছাড়বেন। সরকারি কোষাগারের টাকা খরচ করে মন্দির নির্মাণের তীব্র সমালোচনা করেন হুমায়ুন। হিডকোর মাধ্যমে দুর্গা অঙ্গন তৈরির জন্য ২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ করার সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা করে তিনি জানান, মন্দির হোক আপত্তি নেই, কিন্তু তা সরকারি টাকায় নয়।
রামমন্দিরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভক্তদের দানে মন্দির হতে পারে কিন্তু সরকারি টাকায় ভোটব্যাঙ্ক গোছানোর চেষ্টা বরদাস্ত করবেন না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস হলেই এই সরকারের পতন ঘটবে। নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝাতে হুমায়ুন দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে বিজেপি ১০০ আসনেই থমকে যাবে এবং তৃণমূল চলে যাবে তৃতীয় স্থানে।
ফলত, কিং-মেকারের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁর নবগঠিত দলকেই। আগামী ২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রিগেডের মাঠ ভরাতে কোমর বেঁধে নামছে তাঁর দল। সেনার অনুমতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই মঞ্চ থেকেই তিনি নিজের জোটসঙ্গীদের নাম প্রকাশ করবেন। দলের প্রচারের জন্য কামাল হোসেনকে ‘প্রেস সচিব’ পদে নিযুক্ত করে তিনি নিজের সংগঠনকে আরও পেশাদার করে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে হুমায়ুন-গড় মুর্শিদাবাদে তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেছেন।
বাবার নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া গোলামের দাবি, তিনি দলের অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্রের শিকার। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বাবার বিদ্রোহী আচরণের কারণে তিনি অস্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু এখন তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দরকার হলে রাজনীতি ছাড়বেন, কিন্তু তৃণমূলে আর ফিরবেন না। পিতা-পুত্রের এই জোড়া বিদ্রোহ আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক শিবিরের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












