সোমবার সকালটা ছিলো অন্যরকম। রানাঘাট স্টেশনে রানাঘাটবাসীদের মধ্যে ছিলো খুশীর ঝিলিক। কারণ, রানাঘাটের মাথায় শুভেচ্ছার পালক। একটি ইতিহাস, অতীতে যখন কয়লার ইঞ্জিন কু-ঝিক-ঝিক করে যেত, তখন আর বর্তমানে আধুনিকতার বেড়াজালে এসি ট্রেন তাও আবার পূর্বভারতে প্রথম, যা রানাঘাট স্টেশন থেকে শুরু। রানাঘাটবাসীদের কাছে কম গর্বের নয়, তাই সকাল হতেই রানাঘাট স্টেশনে ভিড় হয়েছিল নিজেদের চোখ কে সার্থক করতে, আবার কেউ বা ট্রেনে চড়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে। সোমবার ট্রেন চালু হলো রানাঘাট স্টেশন থেকে। জনসাধারণ কে নিয়ে চলাচল শুরু হলো সোমবার ১১ আগস্ট থেকে।
রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ অবধি এই সফরের সাক্ষী হতে নিজের হাত দিয়ে স্পর্শ করতে অনাবিল আনন্দ অনেক নিত্যযাত্রীর মধ্যে। তারা এতদিন ভিড়ে ঠাসা জায়গা নিয়ে হুড়োহুড়ি, গরম, বৃষ্টি কিংবা নানা সমস্যা নিয়ে চলাচল করত। আর এদিন সোমবার! ট্রেনের মধ্যে শান্ত পরিবেশ, গরমের লেশমাত্র নেই, এমন ট্রেনে করে একটু বেশী টাকা দিয়ে সফর আলাদা আনন্দ, আলাদা শান্তি, বলেন ট্রেন যাত্রী তপন কুমার রায়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে ছিলেন, এই ট্রেনটি চলাচল হলে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দে ও আরাম করে যেতে পারবেন, যা সত্যি। মহিলা যাত্রী রাখী বিশ্বাস বলেন, এমন পরিষেবা সত্যি গর্বের, তবে আমাদেরও উচিত ট্রেনটি পরিষ্কার রাখা, পাশাপাশি ট্রেনটি ভালো রাখা আমাদেরও দায়িত্ব।
এমন সুন্দর ট্রেনটি যাতে বিজ্ঞাপনের নানা পোস্টার ট্রেনের মধ্যে না লাগানো হয় সেটাও দেখা দরকার রেলকর্তৃপক্ষের। সোমবার থেকে এই ট্রেনে একটি আপ একটি ডাউন, সপ্তাহে ৬ দিন চলবে। বগিতে ১২টি প্রতিবন্ধীদের জন্য বসার জায়গা করা হয়েছে। ট্রেনের মধ্যে ১১২৬ বসার জায়গা পশাপাশি টক ব্যাক এবং টিকিট পরীক্ষক ও আরপিএফ জওয়ানরা থাকছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা থাকছে। প্রত্যেক বগিতে এসি আছে, আছে সিসিটিভি। রানাঘাট স্টেশন থেকে এই এসি ট্রেনটি সকাল ৮.২৯ মিঃ এ ছেড়ে শিয়ালদাহ স্টেশনে পৌঁছালো ১০.১০ মিঃ। ফের সন্ধ্যায় ৬.৫০ মিঃ এ শিয়ালদাহ থেকে ছেড়ে রানাঘাটে আসবে রাত ৮.৩০ মিঃ। রানাঘাট থেকে ছেড়ে চাকদহ, কল্যাণী, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, ব্যারাকপুর, খড়দহ, সোদপুর, দমদম, বিধাননগর হয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছবে। এই দিনটি রানাঘাটবাসীর কাছে সত্যি গর্বের দিন হয়ে দাঁড়াল।















