নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার পর বিরোধীদের নিজেদের অভিযোগ ও বক্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে আদালতে পিটিশন আকারে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাহুল গান্ধী জানান, তিনি এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর আদালতে যথাযথ আবেদন জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাহুলের কথায়, সুপ্রিম কোর্ট কোনও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ নয়। তাই নির্বাচন এবং সংবিধান সংক্রান্ত অভিযোগগুলি আদালতের নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে পেশ করা হবে। বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সেই আবেদনকে কেন্দ্র করেই এগোবে।
এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপের মধ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও তথ্য এখানে উপস্থাপিত হয়নি। জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে রাহুল বলেন, এখনও সময় রয়েছে পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হওয়ার। দেশ ও সংবিধানের স্বার্থে তিনি সেই পথ বেছে নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে প্রশাসনের অভ্যন্তর থেকেও তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন রাহুল।
তাঁর বক্তব্য, দুই শতাধিক আধিকারিক গোপনে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন। তবে এই দাবির সমর্থনে নির্দিষ্ট নথি বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। দিল্লিতে আন্দোলন ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা এবং ব্যারিকেডের ব্যবস্থা নিয়েও সরব হয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
কিন্তু এই ব্যবস্থা বিরোধীদের আন্দোলন থামাতে পারবে না বলে দাবি তাঁর। রাহুলের আরও বক্তব্য, পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের মধ্যেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও তাঁর দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। রাহুল গান্ধী বলেন, এই লড়াই শুধু রাস্তায় প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জনের লড়াই। সংবিধান এবং দেশের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ভয় না পেয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টে ইন্ডিয়া জোটের আবেদনের দিকে। বিরোধীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে কী পদক্ষেপ হয় এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, তা সময়ই বলবে।














