নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম ও ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় নির্বাচন কমিশন এবং তিন নির্বাচন কমিশনারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আরও ১২ জন নেতার যৌথ আর্জির ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেয় শীর্ষ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই নোটিস জারি করে। তবে এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সাংসদ মহুয়া মাঝির কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে আদালত। তাঁর ক্ষেত্রে একটি অন্তর্বর্তী নোটিস জারি করে আদালত স্পষ্ট জানায়; “নয় নম্বর প্রত্যর্থীকে তাঁর মন্তব্য ও আচরণের ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ ও সময়সীমা নির্দিষ্ট তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। বিরোধীদের মূল বক্তব্য, কমিশন একটি তিন সদস্যের সাংবিধানিক সংস্থা; ফলে কোনো একজন সদস্যের একতরফা ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং রাহুল গান্ধী। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই ধরনের উদ্বেগ নিয়ে কোনো বৈঠক সম্ভব নয় এবং যথাযথ আইনি পথেই আসতে হবে। এরপরই সোমবার খড়্গে ও বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে সরাসরি গিয়ে আবেদনপত্র দাখিল করেন রাহুল। প্রথমে ১৪টি ত্রুটির কারণে আবেদনটি আটকে গেলেও পরে তা সংশোধন করে শুনানির জন্য নথিভুক্ত করা হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করে বলা হয়েছে, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে আদালতের আগের রায়কে চ্যালেঞ্জ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং এই প্রক্রিয়া রূপায়ণে সাংবিধানিক বিধি মানা হয়েছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখার দাবি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে আবেদনে দাবি করা হয়, গত দশ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। সেই সমস্ত নথিপত্র, বৈঠকের কার্যবিবরণী ও আপত্তি প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনেরও আর্জি জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।














