৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩৬ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে কমিশন। শুক্রবার অর্থাৎ ২৭ মার্চ বিকেলে দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে খবর, বিচারকেরা শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত যে তথ্য দেবেন, তার ভিত্তিতেই এই নয়া তালিকা তৈরি হবে। তথ্য প্রসেস করতে সময় লাগবে আরও ৪-৬ ঘণ্টা।
প্রয়োজনে এরপর থেকে ‘প্রায় প্রতি দিন’ অতিরিক্ত তালিকা বেরোতে পারে।পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন তপ্ত। বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে কমিশনকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। মধ্যরাতে ওয়েবসাইটে সব নাম ‘বিবেচনাধীন’ দেখানো নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এরা পারে না, এমন কাজ নেই।’ এই বিতর্কের আবহেই কমিশন জানাল, নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের নাম এবার ওয়েবসাইটে দেখা যাবে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে এই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে এ যাবৎ মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ গিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ৭০৫ জন বিচারক। গত সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলেও তাতে কত নাম যোগ হয়েছে, তা খোলসা করেনি কমিশন। এসআইআর শুরুর আগে রাজ্যে ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েন ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। শুনানির জন্য চিহ্নিত হয়েছিলেন ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটার।
এর মধ্যে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে কোনো লিঙ্ক দেখাতে পারেননি, যাঁদের ‘নো-ম্যাপিং’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি শেষে ৮২ লক্ষ জনের নথিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। বর্তমানে রাজ্যে বৈধ ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪।














