Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

আজ শাহী ‘চার্জশিট’ পেশ

আজ শাহী ‘চার্জশিট’ পেশ

বাংলার রাজনীতিতে আজ চড়ছে পারদ । আজই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করবে অমিত শাহ । লক্ষ্য স্পষ্ট— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত তিন মেয়াদের শাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তৈরি ‘চার্জশিট’ বা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। শনিবার নিউ টাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে এই ঝটিতি সফরেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগের দস্তাবেজ জনসমক্ষে আনবেন তিনি। সূত্রের খবর,মূলত গত ১৫ বছরে রাজ্যের ‘অবনতি’র খতিয়ান তুলে ধরাই এই সফরের কেন্দ্রীয় বিষয়। শনিবার দুপুরের মধ্যেই শাহ দিল্লি ফিরে যাবেন। তবে তাঁর এই কয়েক ঘণ্টার সফরকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।

 

বিজেপির এই ‘চার্জশিট’-এ মূলত ১৪টি ক্ষেত্রকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধেছে গেরুয়া শিবির। নথিতে প্রশাসনে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সিন্ডিকেট রাজের বিস্তার এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংকটের মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এর আগে বিধানসভা ভিত্তিক স্থানীয় স্তরে ‘অভিযোগনামা’ প্রকাশ করলেও এবার রাজ্য স্তরে এই বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা, পাথর ও বালি পাচারের মতো ইস্যুগুলিকেও এই দস্তাবেজে রাখা হয়েছে।

 

 

এমনকি সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বঞ্চনার প্রসঙ্গটিও বাদ যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির কৌশল এবার অত্যন্ত সুসংগঠিত। বিজেপি প্রথমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করবে, তার পর আসবে ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’। অর্থাৎ, আগে ‘রোগগুলি’ চিহ্নিত করে তার পর তা ‘নিরাময়ে’র উপায় বলে দেবে দল। তৃণমূল ইতিমধ্যেই তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশিত করেছে। এবার পদ্ম শিবিরের পাল্টা চাল দেওয়ার পালা। এই ‘চার্জশিট’ মানুষের ঘরে ঘরে নিয়ে যাবে বিজেপি নেতা-কর্মীরা। একদিকে যেমন গত ১৫ বছরের দুর্নীতির অভিযোগ থাকবে, তেমনই ইস্তাহারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের মতো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেবে গেরুয়া শিবির। ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের দুই দফার ভোটের আগে শাহের এই সফর কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেবে। বিজেপি সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দিল্লির সর্দার পটেল মার্গের তাজ প্যালেস থেকে রওনা দেবেন শাহ।

জেনারেল অ্যাভিয়েশন টার্মিনাল ৪ থেকে তাঁর বিমান ছাড়বে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সেটি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির থাকতে পারেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বিমানবন্দর থেকে শাহ সরাসরি নিউ টাউনের হোটেলে পৌঁছে বিশ্রাম নেবেন। পরদিন বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে তাঁর মূল কর্মসূচি। সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের গত ১৫ বছরের ‘অবনতি’র খতিয়ান তুলে ধরবেন। এরপর বেলা ১টা ২০ মিনিটে দিল্লির উদ্দেশে পাড়ি দেবেন তিনি।

 

শাহ ‘জ়েড প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। তাঁর এই ঝটিকা সফরে নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গেই থাকবেন এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে শাহের এই ঝটিকা সফর বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। মমতার ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ১৪ দফার এই ‘চার্জশিট’ আমজনতার দরবারে নিয়ে যাওয়াই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য। ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে দুর্নীতির এই খতিয়ান তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াবে কি না, তা সময়ই বলবে। আপাতত শাহী দাওয়াইয়ের প্রভাবে বাংলার ভোটের ময়দান যে আরও তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ফাইল ফটো ।

READ MORE.....