বিচারপ্রার্থীদের ভিড় আর আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের মাঝেই হঠাৎ ছন্দপতন। দিল্লির সাকেত আদালত চত্বরেই আত্মঘাতী হলেন এক আদালত কর্মী। মৃতের নাম হরিশ সিং। তিনি বিশেষভাবে সক্ষম ছিলেন। অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কাজের অসহ্য চাপ সহ্য করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। এদিন এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে আদালত চত্বরে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। এদিন প্রতিদিনের মতো সকালেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন হরিশ।
তিনি আদালতের নথি সংরক্ষণ এবং বিচারপতিদের সহায়তার কাজ করতেন। কিন্তু কর্তব্য চলাকালীন হঠাৎই আদালত চত্বরের সবথেকে উঁচু বহুতলটির ছাদে উঠে যান তিনি। সেখান থেকেই নিচে ঝাঁপ দেন। পতনের শব্দে কেঁপে ওঠে চত্বর। উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই আকস্মিক ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়েই পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করেননি। তবে পারিপার্শ্বিক তথ্য ও সহকর্মীদের বয়ান অনুযায়ী, অতিরিক্ত কাজের চাপই এই মর্মান্তিক পরিণতির মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ষাট শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে হরিশ কাজ করতেন। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত পরিশ্রমী হওয়া সত্ত্বেও দিন দিন কাজের বোঝা তাঁর কাছে পাহাড়প্রমাণ হয়ে উঠছিল। নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেই চাপের মোকাবিলা করা তাঁর পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
অবসাদের কথা তিনি আগেও ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। কাজের বোঝার আড়ালে অন্য কোনো মানসিক বা পারিবারিক টানাপড়েন ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক জন বিশেষভাবে সক্ষম কর্মীর এই মর্মান্তিক মৃত্যু আদালতের পরিকাঠামো ও কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।












