রাষ্ট্রপতির দরবারে পৌঁছতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দুবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তৃতীয় বারের জন্য রাইসিনা হিলসে সময় চেয়ে চিঠি পাঠাল বাংলার শাসকদল। মূলত রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে তুলে দেওয়াই এই সফরের লক্ষ্য।
সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে ২৪ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা এই তৎপরতা শুরু করেছেন। এর আগে গত ৯ মার্চ প্রথমবার ১২-১৫ জনের প্রতিনিধি দলের জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল।
১১ মার্চ সেই আর্জি খারিজ হলে ওই দিনই পুনরায় আবেদন করা হয়। তবে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ‘সময়ের অভাব’ দেখিয়ে সেই আবেদনও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার তৃতীয় বারের চেষ্টায় সবুজ সংকেত মেলে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। সংঘাতের সূত্রপাত গত ৭ মার্চ রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে। শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা জনিত কারণে স্থান পরিবর্তন এবং বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন দ্রৌপদী মুর্মু।
বিজেপি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত অপমান’ বলে সরব হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তৃণমূলকে নিশানা করেন। পালটা কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি বিজেপির কথায় চলছেন। মমতা সাফ জানান, তাঁর সফরে কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহেই রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যের জনজাতি কল্যাণের খতিয়ান দিতে চায় তৃণমূল। কেন্দ্রের অভিযোগের পালটা তথ্য তুলে ধরতেই এই মরিয়া আবেদন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, তৃতীয় বারের আবেদনে রাইসিনা হিলসের দরজা তৃণমূলের জন্য খোলে কি না। ফাইল ফটো।















