ইরানের নতুন নেতৃত্ব আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইছেন বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
একদিকে যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই দাবি ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এদিন ‘অ্যাটলান্টিক’ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ওঁরা কথা বলতে চান। আমিও কথা বলতে রাজি হয়েছি। আমি ওঁদের সঙ্গে কথা বলব। ওঁদের এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। যেটা বাস্তবসম্মত এবং সহজেই সেরে ফেলে যায়, সেটা তাঁদের আরও আগে করে নেওয়া উচিত ছিল। ওঁরা অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করেছিল। প্রেসিডেন্ট কোনো নির্দিষ্ট নাম না নিলেও, কূটনীতিকদের ধারণা, সদ্য গঠিত ইরানের তিন সদস্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরিষদের দিকেই তাঁর ইঙ্গিত।
‘ফক্স নিউজ়’কে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের প্রায় ৪৮ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবি এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে এক দুস্তর ব্যবধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তেহরানের গলায় চরম প্রতিশোধের সুর। খামেনেই হত্যার বদলা নিতে বদ্ধপরিকর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান ও সামরিক কর্তারা। রবিবারও তার প্রমাণ মিলেছে রণক্ষেত্রে। ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ লক্ষ্য করে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। যদিও পেন্টাগনের দাবি, রণতরীটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
পাল্টা জবাবে ওমান উপসাগরে একটি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। ইরাকেও মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। বর্তমানে ইরানে ক্ষমতার রাশ রয়েছে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে। প্রেসিডেন্ট পেজশকিয়ান, ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি এখন দেশটির ভাগ্যবিধাতা। খামেনেইয়ের উত্তরসূরি নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এই পরিষদই সব সিদ্ধান্ত নেবে। একদিকে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন ট্রাম্পের এই দাবি সংঘাত থামার ইঙ্গিত নাকি নতুন কোনো কূটনৈতিক চাল, তা নিয়েই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।












