রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ভোট মিটতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন হুমায়ুন। পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। একইসঙ্গে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যত দিন পদে থাকবেন, তত দিন বিধানসভায় না যাওয়ার কথাও জানান। রেজিনগর উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় মঙ্গলবার। এই আসন থেকেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন। একইসঙ্গে নওদা থেকেও জিতেছিলেন তিনি।
পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হয়। এবার রেজিনগরে তাঁর দলের প্রার্থী ছিলেন তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ। ভোটের দিন সকালেই পুলিশ হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তাঁকে আটক করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভোট মিটতেই সেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হুমায়ুন বলেন, সিপিএমের সময়ে ক্যাডাররা ভোট করত। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখত। এখন পুলিশ ক্যাডারের ভূমিকায় নামল।
এ রাজনীতিতে থাকতে চাই না। আমি রেজিনগরের মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এরপরই রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব। এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।’’ একইসঙ্গে বিধায়ক পদ নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেননি তিনি। কখনও পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলেছেন, আবার কখনও নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিধানসভায় যাওয়া নিয়েও বড় ঘোষণা করেন হুমায়ুন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যত দিন বিধানসভার দায়িত্বে থাকবেন, তত দিন তিনি অধিবেশনে যোগ দেবেন না। কখনও তিনি বলেছেন, বিধানসভাতেই যাবেন না। আবার কখনও জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী অধিবেশন কক্ষে থাকলে তিনি সেখানে প্রবেশ করবেন না। রেজিনগরের ভোটের ফল প্রকাশের আগেই হুমায়ুন দাবি করেন, ওই আসনে বিপুল ভোটে বিজেপি জয়ী হতে চলেছে।
তবে তাঁর দাবি, এটি মানুষের স্বাভাবিক রায় নয়। প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটে কারচুপি হয়েছে। তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদও ভোটের দিন বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটলুটের অভিযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবারই নন্দীগ্রাম থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনকে গ্রেফতারির প্রসঙ্গে বলেছিলেন, পুলিশকে হুমকি দিলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই মন্তব্যের পর বুধবার হুমায়ুনের পাল্টা বক্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হুমায়ুনের বক্তব্য নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, ওঁর বিধানসভায় না-আসাই ভাল। উনি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে আমরা বিধায়করাই ওঁকে বুঝিয়ে দেব।
এখন কুমিরের কান্না কেঁদে লাভ নেই। তবে রাজনৈতিক ক্ষোভের মধ্যেও মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের নিজের পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেননি হুমায়ুন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছিল এবং তাঁর ছেলের জয় নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই দাবি নিয়ে শাসকদলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই হুমায়ুনের এমন আবেগঘন বক্তব্য এবং রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁর অবস্থান কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।














