নয়া জামানা, কলকাতা : নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তৃণমূলের তোলা অভিযোগকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, কমিশনকে কালিমালিপ্ত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে শাসকদল। যদি সত্যিই বৈঠকে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে স্বচ্ছতার খাতিরে সেই বৈঠকের ফুটেজ বা ভিডিয়ো জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি।
শুভেন্দুর মতে, স্রেফ রাজনৈতিক নাটক করতেই তৃণমূল এসব রটাচ্ছে। সোমবার কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের তিন প্রতিনিধি মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে চন্দ্রিমা অভিযোগ করেন, তাঁদের সঙ্গে রীতিমতো অভব্য আচরণ করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। এই প্রেক্ষাপটেই শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছেন ওঁরা। যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে, তাহলে বৈঠকের ভিডিও প্রকাশ্যে আনুক।’
বিরোধী দলনেতার সাফ কথা, তৃণমূল আসলে রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের হয়ে দরবার করতে গিয়েছিল, আর বাইরে এসে হম্বিতম্বি করছে। বিতর্কের আঁচ এখানেই থামেনি। উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে সম্প্রতি যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যকে বিঁধেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রধানকে সম্মান দিতে ব্যর্থ এই সরকার। ‘যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল বলে যে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যা হয়েছে সেটা সংবিধানকে হত্যা করার শামিল’— ঠিক এই ভাষাতেই তোপ দাগেন তিনি।
এই গাফিলতির দায়ে মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে-সহ চার শীর্ষ কর্তার সাসপেনশন দাবি করেছেন তিনি। রবিবার রাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কালো পতাকা দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে ‘অসভ্য’ ও ‘ইতর’ বলতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। তাঁর তীর্যক মন্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ করছে। তাতে সমস্যা কোথায়? কুকুরের কাজ মানুষের পায়ে কামড়ানো। কিন্তু মানুষের কাজ তো কুকুরের পায়ে কামড়ানো নয়।’ কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা আদতে শাসকদলের পরিকল্পিত কৌশল বলেই মনে করছেন তিনি।













