চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মানুষের হজম প্রক্রিয়া শরীরের সামগ্রিক নড়াচড়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। হাঁটার সময় পেট এবং অন্ত্রের পেশিগুলো সক্রিয় হয়, যা খাবার দ্রুত হজম করতে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পুষ্টি পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। আমেরিকান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, হালকা শরীরচর্চা অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা বিশ্রাম নিলে যেসব সমস্যা হতে পারে:
পেট ফাঁপা ও বদহজম: খাবার স্থির হয়ে থাকায় পেটে অস্বস্তি তৈরি হয়।
বুকজ্বালা ও অম্বল: খাবার উপরের দিকে উঠে আসার প্রবণতা তৈরি করে।
রক্তে শর্করার বৃদ্ধি: নড়াচড়া না করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে।
গবেষণার ফলাফল ও বিশেষজ্ঞ মতামত
জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অ্যান্ড লিভার ডিজিজেস-এর একটি গবেষণা বলছে, খাবারের পর মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধীরগতিতে হাঁটলে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই সময়ে কোনোভাবেই দৌড়ানো বা ভারী ব্যায়াম করা যাবে না। কেবল হালকা পায়চারিই যথেষ্ট।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, যারা নিয়মিত হাঁটাচলা করেন না, তারা কেবল হৃদরোগ নয়, মারাত্মক হজমের সমস্যায়ও ভোগেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস অন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
কতক্ষণ হাঁটবেন ও কী বর্জন করবেন?
খাওয়ার পর সোফায় আলসেমি করে বসে থাকা বা সরাসরি বিছানায় যাওয়া এড়িয়ে চলাই উত্তম। সুস্থ থাকতে অন্তত ১৫ মিনিট ঘরের ভেতরে বা বারান্দায় হালকা মেজাজে হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরিশেষে, হজম শক্তি শক্তিশালী রাখতে কেবল ডায়েট চার্টে নজর দিলেই হবে না, জীবনযাত্রার ধরনেও বদল আনতে হবে।












