গুজরাটি পরিবারগুলির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সামর্থ্যের নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মূল্যবোধ, কড়া শৃঙ্খলা এবং বিচক্ষণ মূলধন সৃষ্টির কৌশল। অর্থনৈতিক উপদেষ্টা প্রেম সোনির মতে, অধিকাংশ গুজরাটি পরিবার বিলাসিতার প্রদর্শনী বা সন্তানদের কৃত্রিমভাবে বিত্তশালী দেখানোর চেয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুদৃঢ় আর্থিক নিরাপত্তা এবং স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেয়। অহেতুক ব্যয় বাড়ানের বদলে সম্পত্তি গঠন ও উপার্জনের একাধিক বিকল্প উৎস তৈরি করাই তাঁদের মূল দর্শন। সামাজিক মাধ্যমে গুজরাটি পরিবারগুলির অর্থ ব্যবস্থাপনার ১০টি মৌলিক নিয়ম বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছেন এই আর্থিক বিশেষজ্ঞ। এই অর্থনৈতিক কৌশলের প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো দেখানোর জন্য অর্থ খরচের বদলে স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করা।
কোনো বিলাসবহুল গাড়ি কেনার আগে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কেনাকে তারা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। আর্থিক ভিত সম্পূর্ণ মজবুত না হওয়া পর্যন্ত জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর খরচ স্থগিত রাখার কথা বলা হয়। দ্বিতীয়ত, মাসমাইনের চাকরিকে কখনই চূড়ান্ত বা স্থায়ী আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। প্রেম সোনির মতে, কোনো কোম্পানি থেকে ছাঁটাই না হওয়া বা কোম্পানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্তই বেতন সুরক্ষিত; তাই ভালো বেতনের চাকরির পাশাপাশি সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং উপার্জনের অতিরিক্ত উৎস তৈরি করা জরুরি। এছাড়া ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত জগতে ডিগ্রির চেয়ে সুনাম বা ভাবমূর্তিকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়, কারণ বাজারে তৈরি হওয়া বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতাই নতুন সুযোগ এবং বাণিজ্যিক ঋণ পেতে প্রধান ভূমিকা নেয়।
পারিবারিক শিক্ষার অংশ হিসেবে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই আর্থিক বিষয়াদি ও অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিকটাত্মীয় বা ঘনিষ্ঠদের অর্থ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পর্কের জটিলতা এড়াতে সুনির্দিষ্ট আইনি বা ব্যবসায়িক শর্ত নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে সম্পর্ক ও অর্থ দুটোই সুরক্ষিত থাকে। উপার্জনের চেয়ে কম খরচ করা, মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনে মনোযোগ দেওয়া এবং অলস পড়ে থাকা অতিরিক্ত অর্থ বিভিন্ন লাভজনক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করাকে এই নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব শেষে প্রেম সোনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো পরিবারের সাফল্য দামি গাড়ি বা চোখধাঁধানো বিলাসিতায় মাপা যায় না; একটি পরিবারের সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব হলো এমন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা যাতে পরবর্তী প্রজন্মকে কোনো দিন আর্থিক সংকটে বা দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয়।












