প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পথ আরও মসৃণ করল কেন্দ্র। বিশেষ করে চিন-সহ ভারতের স্থল-সীমান্তবর্তী দেশগুলির লগ্নির ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম কিছুটা শিথিল করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্টার্টআপ, ডিপ-টেক এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে বিদেশি পুঁজির পথ প্রশস্ত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভারতের এই পদক্ষেপে বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে বলে দাবি করা হয়েছে সরকারের তরফে।
২০২০ সালের এপ্রিল মাসে করোনা মহামারীর আবহে চিনা লগ্নির দাপট রুখতে ‘প্রেস নোট ৩’ জারি করেছিল কেন্দ্র। সেই সময় নিয়ম ছিল, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া চিন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার এবং আফগানিস্তানের কোনও কোম্পানিকে ভারতে লগ্নি করতে হলে বাধ্যতামূলক সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ভারতীয় সংস্থাগুলির সস্তা অধিগ্রহণ রুখতেই এই কঠোর প্রাচীর তোলা হয়েছিল। ৪ বছর পর সেই বিধিনিষেধে বড়সড় বদল আনা হল।
নতুন নীতি অনুযায়ী, ‘বেনিফিশিয়ারি ওনার’ বা প্রকৃত মালিকের সংজ্ঞায় স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। ২০০৫ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে। এখন থেকে সীমান্তবর্তী দেশের কোনও বিনিয়োগকারীর যদি ১০ শতাংশ পর্যন্ত ‘অ-নিয়ন্ত্রণকারী’ অংশীদারিত্ব থাকে, তবে তাঁরা ‘অটোমেটিক রুট’ বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সরাসরি দিল্লির দরবারে ধরণা দিতে হবে না, তবে লগ্নি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সরকারকে জানাতে হবে।
একই সঙ্গে কৌশলগত উৎপাদন খাতে গতি আনতে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক উপাদান, পলিসিলিকন এবং ইনগট-ওয়েফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তাবগুলি ৬০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করবে সরকার। শর্ত শুধু একটাই, এই সংস্থাগুলির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে ভারতীয় নাগরিক বা ভারতীয় সংস্থার হাতে। মূলত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের জটিলতা দূর করতেই এই পথে হাঁটল কেন্দ্র। এর ফলে লগ্নির ক্ষেত্রে লাল ফিতের ফাঁস আলগা হবে এবং বিনিয়োগের গতি বহু গুণ বাড়বে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর।















