Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ট্রাম্প-মোদী রসায়নে সিলমোহর : মার্চেই ঐতিহাসিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

ট্রাম্প-মোদী রসায়নে সিলমোহর : মার্চেই ঐতিহাসিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

বিশ্ব রাজনীতির আঙিনায় নতুন সমীকরণ। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বহুপ্রতীক্ষিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই ঘোষণা করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই চুক্তির হাত ধরে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটন পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবর্তে আমেরিকা থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি ও প্রযুক্তি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরেই এই মেগা চুক্তির জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে এই চুক্তিতে। তবে চুক্তির রূপরেখা নিয়ে শুরু থেকেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে তেলের বিকল্প উৎস এবং চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। বুধবার লোকসভায় পীযূষ গোয়েল যখন এই নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, বিরোধীদের হট্টগোলে তাঁর কণ্ঠস্বর কার্যত চাপা পড়ে যায়। তবে যতটুকু শোনা গিয়েছে, তাতে গোয়েল দাবি করেছেন, এই চুক্তি ভারতের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে বিশ্ববাজারে লড়াই করার রসদ জোগাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আমেরিকার এই বিশেষ শুল্ক ছাড় অন্য যে কোনও রফতানিকারী দেশের তুলনায় ভারতের জন্য অনেক বেশি লাভজনক হতে চলেছে।

চুক্তির আলোচনার টেবিলে কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন চলেছে। ওয়াশিংটন ভারতীয় বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার চাইলেও দিল্লি নিজের অবস্থানে অনড় ছিল। সরকারি সূত্রের দাবি, দেশের প্রান্তিক কৃষক এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থে কোনও আপস করা হয়নি। ওমান বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আগের চুক্তিগুলোর উদাহরণ টেনে জানানো হয়েছে যে, স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোতে সুরক্ষা বজায় রাখা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে আমেরিকার হাত ধরার এক কৌশলী পদক্ষেপ।

বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। তেলের বাজারের অস্থিরতা সামাল দিতে ভারত কতটা প্রস্তুত, এখন সেটাই দেখার। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের আত্মবিশ্বাস, এই চুক্তির ফলে ভারতে উৎপাদন এবং ডিজাইনিং ক্ষেত্র এক অভাবনীয় গতি পাবে। এখন কেবল মার্চের অপেক্ষায় দুই দেশের বাণিজ্যিক মহল।

READ MORE.....