সাইবার জমানার নতুন আতঙ্ক ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। এবার এই অদৃশ্য জালিয়াতদের রুখতে কোমর বেঁধে নামল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে দেশজুড়ে ৫৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লুঠ হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দেশের একাধিক ছোট রাজ্যের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এই অপরাধকে কার্যত ‘ডাকাতি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন বিচারপতিরা। জালিয়াতির এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই মামলার শুনানি করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ব্যাঙ্কিং স্তরে গাফিলতি বা কর্মীদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এত বড় জালিয়াতি সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এই ‘ডিজিটাল ডাকাতি’র শিকড় কত গভীরে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেঞ্চ।
তদন্তকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলে অপরাধীরা কখনও সিবিআই, কখনও ইডি বা অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার পরিচয় দিচ্ছে। ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আইনি ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এই প্রবণতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা এসওপি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিপূর্বেই একটি এসওপি তৈরি করেছে, যেখানে সন্দেহজনক ক্ষেত্রে ডেবিট কার্ড ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে, আরবিআই-এর সেই এসওপি এবং টেলিকম বিভাগের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মামলার শুনানিতে বিচারপতিদের মন্তব্য ছিল অত্যন্ত কড়া। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা দেশের একাধিক ছোট রাজ্যের বাজেটের থেকেও বেশি। ’ বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু সচেতনতা প্রচার যে যথেষ্ট নয়, তা আদালতের নির্দেশেই স্পষ্ট। কেন্দ্রকে এই সংকটের মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ডিজিটাল সুরক্ষায় ফাটল ধরালে পার পাওয়া যাবে না, এটাই ছিল এদিনের শুনানির মূল সুর।













