বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার অনেক আগেই নতুন কৌশলে ঘর গোছাতে নামল গেরুয়া শিবির। তৃণমূলকে বিঁধতে এবার আর কেবল বড় রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে দুর্নীতির খতিয়ান পৌঁছে দিতে চাইছে বিজেপি। ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রকে চিহ্নিত করে প্রতিটি এলাকার জন্য আলাদা ‘অভিযোগপত্র’ বা ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করল তারা। বড় আদর্শগত লড়াইয়ের বদলে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই এই রণকৌশল সাজানো হয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক প্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলে দাবি করছে নেতৃত্ব।
তাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—দিল্লির রাজনীতির বদলে বাংলার প্রতিটি বুথের নাগরিক সমস্যা ও প্রশাসনিক স্থবিরতাকে জনসমক্ষে আনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটাররা যখন নিজের এলাকার প্রতিদিনের অভাব-অভিযোগের নিরিখে সরকারকে বিচার করবেন, তখন এই ‘হাইপার-লোকাল’ প্রচার শাসক দলকে চাপে ফেলতে পারে। এই চার্জশিটে মূলত তিনটি বিষয়কে তুরুপের তাস করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদল ও ‘কাট-মানি’র অভিযোগ তুলে পরিষেবা প্রদানে অস্বচ্ছতার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে শিক্ষিত যুবসমাজের ক্ষোভ উসকে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের মেরুদণ্ড নিয়ে সওয়াল করা হয়েছে। পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এটি নিছকই ‘নির্বাচনী গিমিক’।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনমুখী প্রকল্পের সাফল্যের কাছে এই অভিযোগপত্র ধোপে টিকবে না বলে তাদের বিশ্বাস। শাসক নেতৃত্বের মতে, উন্নয়নের নিরিখে পাল্লা দিতে না পেরে বিজেপি কুৎসার রাজনীতি শুরু করেছে। তৃণমূল যখন সরকারি পরিষেবার ঢাল ব্যবহার করছে, বিজেপি তখন জবাবদিহিতার দাবিতে সরব। ৩০টি আসনের এই অতি-আঞ্চলিক প্রচার আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে পরিষেবার অভাব বড় হবে নাকি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা, তা নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে।













