ত্বকের কালো দাগ দূর করা এবং তারুণ্য ধরে রাখতে যুগ যুগ ধরে এশীয় দেশগুলোতে চালের জল ও চালের গুঁড়োর ব্যবহার হয়ে আসছে। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই ফেসপ্যাক কেবল সাশ্রয়ী নয়, বরং নিরাপদ ও কার্যকর। বিশেষ করে ভাতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন বি ত্বকের গভীর থেকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
একটি কার্যকর ফেসপ্যাক তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে আধা কাপ চাল, ২ টেবিল চামচ দই, ১ চা চামচ মধু এবং অর্ধেক লেবুর রস। প্রথমে চাল ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তা ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর একে একে দই, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করলেই প্যাকটি প্রস্তুত।
ব্যবহারের পদ্ধতি: মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্যাকটি লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলে বৃত্তাকার গতিতে আলতো হাতে ঘষে (স্ক্রাবিং করে) ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলের জন্য সপ্তাহে অন্তত দু’বার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভাতের ফেসপ্যাক বহুমুখী উপকারিতা প্রদান করে:
দাগ ও পিগমেন্টেশন দূর: চালের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং লেবুর ভিটামিন-সি কালো দাগ ও হাইপারপিগমেন্টেশন হালকা করে।
প্রাকৃতিক ব্লিচিং ও পুষ্টি: চালের জলে থাকা ফেরুলিক অ্যাসিড এবং অ্যালানটোইন ত্বকের রঙ উন্নত করে প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
এক্সফোলিয়েশন ও আর্দ্রতা: দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে এবং মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে।
তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণ: ভাতের স্টার্চ ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে লোমকূপ পরিষ্কার রাখে।
বার্ধক্য বিরোধী: এটি বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা কমিয়ে ত্বক টানটান রাখতে এবং তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক প্রতিকার হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তারা লেবুর রস এড়িয়ে চলবেন। যেকোনো প্যাক মুখে লাগানোর আগে হাতের ছোট অংশে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি যাতে কোনো অ্যালার্জি না হয়। প্যাক ধুয়ে ফেলার পর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা আবশ্যক।












