Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ধনখড়ের মতো দশা হবে কমিশনারদের কমিশনের বৈঠকে ‘অপমানে’ মুখ্যমন্ত্রী

ধনখড়ের মতো দশা হবে কমিশনারদের কমিশনের বৈঠকে ‘অপমানে’ মুখ্যমন্ত্রী

আপনাদের কথা শুনব কেন?’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এই একটি মন্তব্যেই কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল দিল্লির নির্বাচন সদন। সোমবার বিকেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে বৈঠক চলাকালীন এই নজিরবিহীন বাদানুবাদে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক বয়কট করে সঙ্গীদের নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘উদ্ধত আচরণ’ এবং ‘দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, কমিশনের দশা হবে প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল এদিন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হওয়া ১২ জন সাধারণ মানুষ। মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং এসআইআর সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সরব হতেই দিল্লিতে এই অভিযান ছিল তৃণমূলের। কিন্তু এক ঘণ্টার সেই বৈঠক শেষ পর্যন্ত পরিণত হল যুদ্ধক্ষেত্রে।

সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরু থেকেই পরিস্থিতি ছিল তপ্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন থেকেই কমিশনের তরফ থেকে অসহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মমতা জানতে চেয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রাণ হারানো ১৫০ জন মানুষের দায় কে নেবে? কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র নামে ভোটার তালিকা ছাঁটাই হচ্ছে? কেন অসমে এমনটা হচ্ছে না? একের পর এক এই কঠিন প্রশ্নের মুখেই মেজাজ হারান কমিশনাররা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, তৃণমূলের যুক্তি খণ্ডাতে না পেরে জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি বলে বসেন, ‘আপনাদের কথা শুনব কেন?’ এই কথা শোনা মাত্রই মেজাজ হারান মমতা। তিনি চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় জ্ঞানেশ কুমারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘বিজেপির দালালি করলে কমিশনারদেরও দশা হবে ধনখড়জির মতো।’ বাইরে বেরিয়ে তিনি আরও খোলসা করেন বিষয়টি। মমতা বলেন, ‘ধনখড়জি যখন আমাদের ওখানে রাজ্যপাল ছিলেন, রোজ আমাদের বিরুদ্ধে বলতেন, কাজ করতেন। তাঁর কী অবস্থা হয়েছে দেখুন।’ উল্লেখ্য, শারীরিক কারণে ইস্তফা দিলেও ধনখড়ের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে রহস্য ছিলই। মমতা এদিন সেই পুরনো স্মৃতি উসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কমিশনকে।

বৈঠকের ভেতরে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ‘সীমা খন্না’ নামের এক আধিকারিক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, কোন অধিকারে এআই ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে? কেন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে? সূত্রের খবর, অভিষেক এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি পয়েন্ট তুলে ধরে কমিশনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করতেই কমিশনারদের তরফ থেকে বারবার বলা হতে থাকে, আরে ছোড়িয়ে না! এই অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। মমতা প্রশ্ন করেন, ‘কে এই সীমা খন্না? কোন সাহসে তিনি এআই ব্যবহার করে নাম মুছছেন? মাইক্রো অবজৃার্ভারদের কি আপনি বরাত দিয়ে পাঠিয়েছেন?’ এই প্রশ্নবাণেই শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারান জ্ঞানেশ কুমার। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই এই নাম বাদ দেওয়ার খেলা শুরু হয়েছে। যদিও কমিশন তাদের পাল্টা বিবৃতিতে দাবি করেছে, তৃণমূলের সব প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলের বিধায়করা তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অশালীন এবং হুমকির ভাষা’ ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের আচরণের প্রসঙ্গ টেনেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর সঙ্গে নিয়ে আসা ১২ জন নাগরিককে কমিশনের সামনে হাজির করেছিলেন। যার মধ্যে ১০ জন হিন্দু এবং ২ জন মুসলিম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এই ইস্যুকে অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যা বলে দাগিয়ে দিতে চাইলেও মমতা কৌশলে প্রমাণ করে দিলেন যে, ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই হিন্দু। তাঁদের মধ্যে কারও নাম তালিকায় মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে, অথচ তাঁরা সশরীরে কমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে। মমতা দেখাতে চেয়েছেন, ধর্মের তাস খেলে আসলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মমতা হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ‘কমিশনের সঙ্গে বিজেপি আছে। আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে। কার শক্তি বেশি দেখে ছাড়ব।’ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কমিশন যদি তাদের অবস্থান সংশোধন না করে, তবে আগামী দিনে আরও বড় সংখ্যক মানুষ নিয়ে তিনি দিল্লি অভিযান করবেন। কমিশনের এই অনড় মনোভাবে ক্ষুব্ধ মুখ্য…

READ MORE.....