রাজ্যসভার একটি আসন আর বিধানসভার গুটিকয়েক বাড়তি টিকিটের দাক্ষিণ্য পেতে ডিএমকের কড়া শর্তেই কার্যত সায় দিল হাত শিবির। তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত বড় শরিক এম কে স্ট্যালিনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমাকেই মেনে নিল তারা। ৬ মার্চের মধ্যে আসনরফা চূড়ান্ত না করলে রাজ্যসভার নিশ্চিত আসনটি হাতছাড়া হবে, ডিএমকের এই চরম হুঁশিয়ারিতেই বরফ গলেছে দিল্লির। শনিবার ডিএমকে সদর দপ্তরে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়ে দিল, জোট ‘অটুট এবং অনড়’।
আসলে বিধানসভা ভোটের আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দড়ি টানাটানি চলছিল দুই শিবিরের মধ্যে। কংগ্রেসের রাজ্য নেতারা সম্মানজনক আসন ও সরকারে অংশীদারিত্বের দাবি তুলে বিদ্রোহের মেজাজে ছিলেন। কেউ কেউ এমনকি অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র সঙ্গে হাত মেলানোর পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু স্ট্যালিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দেয়, লোকসভার মতো বিধানসভায় কংগ্রেসকে অত গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। ১৬ মার্চ তামিলনাড়ুর ছয়টি রাজ্যসভা আসনে ভোট। বিধানসভার পাটিগণিত অনুযায়ী ইন্ডিয়া জোটের জেতা নিশ্চিত এমন চারটি আসনের মধ্যে একটি কংগ্রেসকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডিএমকে।
শুক্রবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের সঙ্গে বৈঠকে স্ট্যালিন সাফ জানান, রাজ্যসভা আসন পেতে হলে দোনামনা ছেড়ে ৬ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এই চাপের মুখেই ৪০টি আসনের দাবি ছেড়ে ২৭-২৮টি আসনেই সন্তুষ্ট থাকার ইঙ্গিত দিল কংগ্রেস। দলের পর্যবেক্ষক গিরিশ চডঙ্কর ডিএমকে দপ্তরে গিয়ে সম্পর্কের রসায়ন মেরামতির চেষ্টা করেন। কংগ্রেসের যুক্তি, একটি রাজ্যসভা আসন জেতা মানে ছ’টি বিধানসভা আসন জেতার সমান। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ট্যালিনের শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া দিল্লির কাছে আর কোনও বিকল্প রাস্তা খোলা ছিল না। ফাইল ফটো।













