Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

নৌকাহীন ভোটে রাজপাট কার, প্রশ্ন

নৌকাহীন ভোটে রাজপাট কার, প্রশ্ন

প্রচারের পারদ নামল। থামল মাইকের আওয়াজ, স্তব্ধ হলো মিছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার। এখন শুধুই ক্ষণগণনা। কাল ১২ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গণতন্ত্রের উৎসবে মাতবে বাংলাদেশ। তবে এবারের নির্বাচনে অনুপস্থিত গত দেড় দশকের শাসক দল আওয়ামী লীগ।

 

অন্তর্বর্তী সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় নির্বাচনী ময়দানে নেই নৌকা প্রতীক। আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব আবহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই ভোট।এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিতে এখন শেষ মুহূর্তের তুলির টান পড়ছে। ভোটের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষমতার ময়দান থেকে ছিটকে যাওয়া আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কার রাজপাট কায়েম হবে, এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

 

 

নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে সরগরম রাজপথ। বিভিন্ন বাংলাদেশ সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়েছে, প্রচার শেষ হওয়ার পর কোনো প্রার্থী বা সমর্থক প্রচার চালালে প্রার্থিতা বাতিল হবে। ৩০০ আসনের লড়াই হওয়ার কথা থাকলেও শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রয়াণে ভোট হচ্ছে ২৯৯ আসনে। ভোটের আগে ও পরে মোট ৯৬ ঘণ্টা সভা-সমাবেশে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আজ মধ্যরাত থেকেই দু’চাকার যান চলাচলে নামছে কাঁচি। বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

 

তবে ভোটের উৎসবের সমান্তরালে রক্তক্ষরণের ক্ষতও স্পষ্ট। তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ৬০ দিনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২৩৭টি। প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। মুন্সীগঞ্জ থেকে নরসিংদী। গুলি আর বারুদের গন্ধে ভারী বাতাস। ২০১৪-র সেই ভয়াবহ সংঘাতের স্মৃতি ফিরে আসায় জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তবে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা রক্ষীর চাদরে ঢাকা থাকছে দেশ। শুধু সেনাবাহিনী থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার সদস্য, যা বিগত দিনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। ঢাকার ১২১টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ তকমা দিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

 

ভোটের সমীকরণ চমক দেওয়ার মতন । জনমত জরিপে জানা গেছে,সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ৪৪.১ শতাংশ ও জামায়াত ৪৩.৯ শতাংশ জনসমর্থন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তুরুপের তাস হতে পারেন নারীরা। মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী হলেও প্রার্থী হিসেবে তাদের অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশ।

 

সারা বিশ্বের নজরও এখন ঢাকার দিকে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন ২৩টি দেশ ও ৭টি সংস্থার ৫৪২ জন প্রতিনিধি। এর মধ্যেই মার্কিন মুলুক থেকে ঢাকায় এল সুখবর। বাংলাদেশের কাঁচামালে তৈরি পোশাক আমদানিতে ‘কাউন্টারভেইলিং ডিউটি’ বা পাল্টা শুল্ক তুলে নিল ওয়াশিংটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির শুল্ক ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন একে বলেছেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে নতুন ধাপের চিহ্ন।’ এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু।’ তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিগত নির্বাচনগুলো ছিল ‘এক ধরনের মকারি’ বা প্রহসন। সব মিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় ঢাকা।

READ MORE.....