ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শিক্ষিত বেকার এবং ভূমিহীন কৃষকদের জন্য জোড়া সুখবর শোনাল নবান্ন। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ১৫ আগস্ট নয়, বরং ১ এপ্রিল থেকেই চালু হচ্ছে বহুল চর্চিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। একইসঙ্গে ওই দিন থেকেই মিলবে ভাগচাষিদের জন্য বরাদ্দ বার্ষিক ৪ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান। প্রকল্পের সুবিধা পেতে আমজনতাকে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, তার জন্য ‘দুয়ারে সরকার’-এর ধাঁচে বিধানসভা ভিত্তিক বিশেষ ক্যাম্প করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের কর্মহীন যুবকদের স্বাবলম্বী করতে বাজেটে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম দিকে এই প্রকল্প আগস্ট মাসে শুরুর কথা থাকলেও এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আগে আগষ্টে যুবসাথী প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তা এগিয়ে আনা হচ্ছে। এপ্রিল থেকেই মিলবে এই বেকার ভাতা।’ নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের আওতায় দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ বেকাররা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। আবেদনের জন্য আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে শর্ত একটাই, অন্য কোনও সরকারি জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেলে এই ভাতা মিলবে না। অবশ্য ছাত্রছাত্রীরা স্কলারশিপ পেয়ে থাকলেও যুবসাথীর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই সুবিধা মিললেও পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভূমিহীন কৃষকদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষিত খেতমজুরদের ৪ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে এপ্রিল থেকে। রবি ও খরিফ এই দুই মরশুমে দুই কিস্তিতে দুই হাজার টাকা করে সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি চাষিদের জন্য সেচের জল করও সম্পূর্ণ মকুব করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে ক্যাম্প করা হবে।
দুয়ারে সরকারের মতো। সেখানে আবেদন করতে হবে। অনুদানের পাশাপাশি সেচের যে চার্জ চাষিরা দিতেন এবার থেকে তা মকুব করা হল।’ আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। আগামী ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ক্যাম্প চলবে। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেই মিলবে প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সরকারের এই বড় ঘোষণা রাজ্যের বড় অংশের মানুষকে সরাসরি উপকৃত করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












