বিধানসভা ভোটের আগে পিংলা কেন্দ্রে নতুন করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার জেলা সম্পাদক গোবিন্দ দাস দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও জল্পনা।
শুক্রবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে গোবিন্দ দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি বিজেপি এবং দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। ফলে তাঁর এই হঠাৎ পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে গোবিন্দ দাস অভিযোগ করেন, পিংলা বিধানসভা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে দল স্থানীয় কোনও নেতা বা নেত্রীকে প্রার্থী করেনি। তাঁর দাবি, পিংলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকা কোনও ভূমিপুত্র বা ভূমি-কন্যাকে প্রার্থী করা উচিত ছিল। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তে বহিরাগত প্রার্থীকে সামনে আনা হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলেই তিনি মনে করেন।
এই প্রসঙ্গে পিংলা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী স্বাগতা মান্না জানান, গোবিন্দ দাসের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই প্রথম এই খবর শুনেছেন বলে জানান তিনি। বিষয়টি দলীয় স্তরে খতিয়ে দেখে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, গোবিন্দ দাসের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে—তিনি কি আবার নিজের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন? যদিও এ বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে পিংলা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অজিত মাইতি বলেন, কেউ যদি তৃণমূলে আসতে চান, তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা এবং নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে।
ভোটের ঠিক আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আসতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।














