নতুন বছরের শুরুতেই অলআউট আক্রমণে নামছে ঘাসফুল শিবির। একদিকে বাংলার গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান সাধারণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, আর অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের ‘এসআইআর’ এর বিরোধিতা এই জোড়া কৌশল নিয়েই শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক প্যাটিস বিক্রেতাকে নিগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে এ দিন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন তিনি। অভিষেকের চাঁছাছোলা প্রশ্ন করেন, চাউমিন খাব না চিকেন প্যাটিস, সেটা কি এখন দিল্লির বাবারা ঠিক করে দেবে? স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ২ জানুয়ারি থেকে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে এই ‘চক্রান্তের’ মোকাবিলা করবেন তিনি নিজে।
শনিবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিল বিজেপির তথাকথিত ‘খাদ্য-রাজনীতি’ এবং বাংলার প্রতি বঞ্চনা। সম্প্রতি গীতাপাঠের আসরে আমিষ প্যাটিস বিক্রির অপরাধে এক বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনা নিয়ে সরব হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মাছ খাওয়া সংক্রান্ত পুরনো মন্তব্যের রেশ টেনে অভিষেক বলেন,প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাছ খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এখন গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করলে মারছে। এরা বাংলায় ক্ষমতায় এলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে? তাঁর আক্রমণাত্মক সংযোজন, গীতা পাঠ বা রাম ভক্তি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, যা বাড়িতে করা উচিত। এর নামে রাস্তায় গুণ্ডামি এবং দুর্গার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা বরদাস্ত করা হবে না। রাম মন্দির সম্পন্ন হওয়ার পর বিজেপি ‘জয় শ্রীরাম’ বলাও ভুলে গিয়েছে বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।।ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর-কে নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
অভিষেকের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার সুপরিকল্পিত ছক কষছে দিল্লি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন যুক্তিতে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? এই ইস্যুতেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন দপ্তর ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের দাবি, তৃণমূল একমাত্র দল যারা মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ছে। একই সঙ্গে বাংলার পাওনা টাকা আটকে রাখা নিয়ে সরব না হওয়ায় রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের ‘অকর্মণ্য’ বলেও দাগিয়ে দেন তিনি।
আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করে অভিষেক জানান, আগামী ২ জানুয়ারি বারুইপুর থেকে এই নতুন কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে। টানা এক মাস তিনি জেলায় জেলায় রাজপথে থাকবেন। ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারে তাঁর কর্মসূচি রয়েছে। গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের বিস্তারিত ‘রিপোর্ট কার্ড’ নিয়ে তৃণমূল কর্মীরা মানুষের দরজায় দরজায় যাবেন।
এ দিন ছাব্বিশের লড়াইয়ের নতুন স্লোগানও প্রকাশ্যে আনেন তিনি— ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষা করতে তিনি যে কোনো লড়াইয়ে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট করে দিয়ে অভিষেক জানান, মাথা নত করতে হলে তিনি বাংলার মানুষের কাছে করবেন, কিন্তু দিল্লির বঞ্চনার কাছে নয়। আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের গড়িমসির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই চলবেই।













