পুরুলিয়া থেকে ঝাড়গ্রাম— আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের ভোট সমীকরণে ভাগ বসাতে তৈরি ঝাড়খণ্ডের ‘টাইগার’ বাহিনী। প্রতিবেশী রাজ্যের ডুমরির বিধায়ক জয়রাম মাহাতোর দল ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চা (জেএলকেএম) এবার বাংলার তিন জেলায় প্রার্থী দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। চার জেলার মোট ১১টি বিধানসভা আসনে লড়বে তারা।
গত সপ্তাহে পুরুলিয়ার ঝালদায় দলের নতুন কার্যালয়ে আয়োজিত রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই রণকৌশল স্থির হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলের ভোট ‘কাটাকুটি’র খেলায় জয়রামের এই পদক্ষেপ শাসক ও বিরোধী, উভয় শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দলের এই আগ্রাসী মেজাজ স্পষ্ট করে জেএলকেএম জানিয়েছে, পুরুলিয়ার সবকটি অর্থাৎ ৯টি আসনেই প্রার্থী দিচ্ছে তারা। এর পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি আসনেও লড়াই করবে টাইগারের দল।
যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি, তবে এদিনের বৈঠকে ১১টি বিধানসভার পর্যবেক্ষকের নাম চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার দুই অঞ্চল— পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের সভাপতি যথাক্রমে সজল মাহাতো ও গোপালচন্দ্র মাহাতোকে লড়াইয়ের নীল নকশা বুঝিয়ে দিয়েছে রাজ্য কমিটি। পশ্চিমাঞ্চলের সভাপতি গোপালচন্দ্র মাহাতো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘জঙ্গলমহলে ১১ টি আসনে আমরা লড়াই করব, তারই প্রস্তুতি চলছে।’ ভোটের ময়দানে নামার আগে ঝালদার তুলিনে একটি বিশাল জনসভার মাধ্যমে শক্তিবৃদ্ধি করতে চাইছে জেএলকেএম।
চলতি মাসের ২১ বা ২২ তারিখ নাগাদ তুলিনের উহুপিড়ি ময়দানে সেই সভা হওয়ার কথা। দলের সুপ্রিমো জয়রাম মাহাতোকে দিনক্ষণ নিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট দিন চূড়ান্ত না হলেও নিচুতলায় প্রচার ও প্রস্তুতির কাজ জোরকদমে শুরু করে দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের এই দল। গোপালচন্দ্র মাহাতোর কথায়, ‘আমরা দলের সুপ্রিমোকে জানিয়েছি ২১ বা ২২ মার্চ ঝালদার তুলিনে সভা করতে চাই। আশা করছি, এই দু’দিনের মধ্যে কোনও একটি দিন চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’ সংগঠন মজবুত করতে জেলাজুড়ে কার্যালয় খোলার হিড়িক পড়েছে। চাষ মোড় এবং কোটশিলার পর এবার ঝালদায় অফিস খুলেছে জেএলকেএম।
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই বরাবাজারে আরও দুটি কার্যালয় চালু হবে। পুরুলিয়ার ৯টি আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত অনেক আগেই হয়েছিল, তবে সুপ্রিমো জয়রাম মাহাতোর নির্দেশে এখন ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরকেও নিশানায় রাখা হয়েছে। দ্রুত ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকে সংগঠন বিস্তারের কাজ শেষ করতে চাইছে দল। কুড়মি ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে বিধানসভা ভোটে বড়সড় ওলটপালট ঘটাতেই যে এই ‘টাইগার’ বাহিনী নামছে, তা নিয়ে সংশয় নেই রাজনৈতিক মহলে।














