বুধবার থেকেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শুরু হতে চলেছে প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’-এর নির্মাণকাজ। সোমবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেছেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। গত ৬ ডিসেম্বর ঘটা করে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এবার সরাসরি কাজ শুরুর ডাক দিয়ে জেলা তথা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন তিনি। সোমবার সকালে সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে হুমায়ুন লিখেছেন, ‘শান্তি, ন্যায় এবং বিশ্বাসের জয় হোক। আলহামদুলিল্লাহ! আগামী ১১ই ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে পবিত্র বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ। ভারতের সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কাম্য।’ একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সেই ইমারতের একটি নকশাও জনসমক্ষে এনেছেন তিনি।
জেলা রাজনীতির কারবারিদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু আবেগকে ঢাল করেই ময়দানে নামতে চাইছেন এই দাপুটে নেতা। গত ডিসেম্বরে বেলডাঙায় যখন এই প্রকল্পের শিলান্যাস হয়, তখন থেকেই বিতর্কের দানা বেঁধেছিল। লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত করে হুমায়ুন কার্যত শক্তিপ্রদর্শন করেছিলেন। তৃণমূল থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি গঠন করেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। জানা গিয়েছে, এই মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই কোটি কোটি টাকা চাঁদা সংগ্রহ করেছে তাঁর অনুগামীরা। লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এবার আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের সঙ্গে জোট বেঁধে বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছেন হুমায়ুন ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বাবরি মসজিদ ইস্যুটিকে সামনে রেখে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোই হুমায়ুনের মূল লক্ষ্য। যদিও তাঁর এই কৌশলী চালকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল। বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আর হুমায়ুনের রাজনীতি প্রসঙ্গে বলতে চাই, মুর্শিদাবাদের মানুষ রাজনীতি সচেতন, তাই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সচেতন হয়েই ভোট দেবেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। হুমায়ুন বা তাঁর দল নিয়ে আমাদের কোনও প্রতিক্রিয়া নেই।’













