Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বামেদের হাত ছাড়ল কংগ্রেস চাপ বাড়ল সেলিম-নওশাদের

বামেদের হাত ছাড়ল কংগ্রেস চাপ বাড়ল সেলিম-নওশাদের

শেষ পর্যন্ত জল্পনাই সত্যি হলো। কাটল জট । ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বামেদের হাত ছাড়ল কংগ্রেস। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিল্লির হাইকম্যান্ড সাফ জানিয়ে দিল, ২৯৪ আসনেই একা লড়বে তারা। লোকসভা ভোটের পর থেকেই আলিমুদ্দিনের সঙ্গে বিধান ভবনের দূরত্ব বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই বিচ্ছেদে কার্যত সিলমোহর পড়ল। জোট ভেঙে একলা চলার এই সিদ্ধান্ত বাংলার ভোট ময়দানে নতুন মেরুকরণ তৈরি করল।

দিল্লির বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী স্পষ্ট জানান, কর্মীরা জোট চান না। প্রদেশ পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর বলেন, ‘সিপিএমের সঙ্গে জোট হলে আমাদের দলীয় কর্মী- সমর্থকদের মনোবল ভেঙে যায়। সেই কারণেই নেতৃত্ব একা লড়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা চান, কংগ্রেস সব আসনেই একা লড়ুক।’ মীরের এই মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার যে, বুথ স্তরের কর্মীদের চাপেই হাইকম্যান্ড পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। অতীতে বারবার বামেদের সঙ্গে জোট করেও কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে। তাই এবার নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তিতেই শান দিতে চাইছে হাত শিবির।

কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে বাম শিবিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কিছুটা নমনীয় হলেও প্রশ্ন ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘বিজেপি এবং তৃণমূল সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বাংলা বাঁচাতে হলে সবাইকে একসঙ্গে আসতে হবে। কংগ্রেস ঠিক করবে তাদের অবস্থান কী হবে। আমাদের যখন বলেছে, নিচের তলার কংগ্রেস কর্মীরা ঠিক করবে, আমরা বলেছি নিচের তলার কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে কথা বলব, কোনও অহমিকা নেই।’ অন্যদিকে, আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি এখনও জোটের আশা ছাড়ছেন না। তাঁর কথায়, ‘আমি এখনও আশা করব জাতীয় কংগ্রেস এই জোটে আসুক।’

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কংগ্রেস আলাদা দল, ওঁরা ওঁদের কথা তো বলবেনই, এতে অসুবিধার কী রয়েছে!’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী ভোট ভাগ হলে আখেরে সুবিধা হবে শাসক দলেরই। কিন্তু কংগ্রেস এবার আর কারও লেজুড়বৃত্তি করতে রাজি নয়। অধীরকে সরিয়ে শুভঙ্করকে সভাপতি করার সময়ই এর ইঙ্গিত মিলেছিল। বাম-কংগ্রেসের এই ‘ডিভোর্স’ বাংলার ভোটের লড়াইকে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

READ MORE.....