বাজেটে ঘোষিত যৎসামান্য বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেকের বিকাশ ভবন চত্বর। আশাকর্মীদের পর এবার বঞ্চনার অভিযোগে পথে নামলেন রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা। অন্তর্বর্তী বাজেটে মাত্র ১ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানোর ঘোষণাকে ‘অপমান’ হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে মঙ্গলবার শিক্ষা দপ্তরের সদর কার্যালয় অভিযানে শামিল হন কয়েক হাজার আন্দোলনকারী। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং অসুস্থ হয়ে পড়া আন্দোলনকারীদের ভিড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পার্শ্বশিক্ষকদের সাফ দাবি, এই সামান্য বৃদ্ধিতে তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি, বরং তাঁদের হেয় করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বিক্ষোভকারীদের হঠাতে বেশ বেগ পেতে হয় প্রশাসনকে। মিছিল বিকাশ ভবনের ফটকের কাছে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি চরমে ওঠে। বহু আন্দোলনকারী পুলিশের বাধা টপকে এগোতে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যার জেরে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও তোলেন পার্শ্বশিক্ষকরা।
যদিও পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ডামাডোলের মধ্যে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রতীক্ষার পর মাত্র ১ হাজার টাকার এই বৃদ্ধি মানতে নারাজ তাঁরা। আন্দোলনরত এক পার্শ্বশিক্ষকের কথায়, ‘২০১৮ সালে আমাদের বেতন ১০ হাজার টাকা করা হয়। তারপর ৮ বছর পর ১ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি করে সমাজের কাছে হেয় করেছে।’ উল্লেখ্য, ভোটের মুখে পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেটে প্যারা-শিক্ষক, শিক্ষা বন্ধু, সহায়ক-সহায়িকা ও ব্যবস্থাপনা কর্মীদের বেতন ১ হাজার টাকা করে বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল।
সেই সঙ্গে ৬০ বছরের আগে কারও মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়দের জন্য এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এই বাবদ সরকার ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও তাতে শান্ত হননি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবি হল বেতন আরও সম্মানজনক হারে বৃদ্ধি এবং চাকরির স্থায়ীকরণ। বিকাশ ভবনের সামনের রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা, যার জেরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, স্থায়ীকরণের দাবিতে অনড় থেকে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ পার্শ্বশিক্ষকরা।












