আমেরিকা ও ইরানের রণংদেহি মেজাজে বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে এল জ্বালানি সঙ্কট। তেলের বাজারে আগুন। তেহরানের কৌশলী চালে কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু খাঁড়িতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় আকাশছোঁয়া হচ্ছে অশোধিত তেলের দাম। যুদ্ধের প্রচ্ছায়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ব্যারেল প্রতি দর এক ধাক্কায় প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ দিল্লির।
প্রণালীর এক পাড়ে ইরান, অন্য পাড়ে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই ভৌগোলিক অবস্থানকে হাতিয়ার করেই ড্রাগন প্যাঁচ কষছে তেহরান। ব্রিটিশ নজরদারি সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তপ্ত এই জলপথে ইতিমত্যেই দু’টি জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থী বাহিনী। একটি জাহাজের খুব কাছে জোরালো বিস্ফোরণের খবরও মিলেছে। ইরানের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট, এই পথ দিয়ে কোনও জাহাজকে তারা আপাতত এগোতে দেবে না।
বাণিজ্যিক ভাবে বিশ্বের ধমনী বলা হয় এই হরমুজ় প্রণালীকে। বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছয়। তেহরানের এই অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের তেলের বাজারে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, আজ সকালেই ব্যারেল প্রতি অশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৬.১৬ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯৬০.৮৩ টাকা। অন্যদিকে আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত বাজারেও ৪ শতাংশ দর বেড়ে প্রতি ব্যারেলের দাম ছুঁয়েছে ৬৯.৬৭ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৬,৩৬৭.৬৬ টাকা)।
ভারত নিজের চাহিদার ৫০ শতাংশ তেল আমদানি করে এই পথ দিয়ে। ইরাক, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে দৈনিক ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল ভারতের বন্দরে আসে এই হরমুজ় হয়েই। ফলে নয়াদিল্লির উদ্বেগ স্বাভাবিক। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, বর্তমানে দেশে বেশ কয়েক দিনের তেলের ভাণ্ডার মজুত রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এই সঙ্কট সামাল দেওয়া গেলেও অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় বিপদের আশঙ্কা থাকছে। সেক্ষেত্রে ভারতকে বিকল্প পথের সন্ধান করতে হবে দ্রুত।
বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে এই সরু জলপথটিই এখন বারুদের স্তূপ। আমেরিকা-সহ বহু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের ভাগ্য এখন ঝুলছে তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে জ্বালানির দাপটে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।












