Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

‘ভয় পেয়ে দেশ ছাড়িনি, ফের ফিরবই’ প্রত্যাবর্তনের শর্ত বেঁধে দিলেন মুজিব কন্যা

‘ভয় পেয়ে দেশ ছাড়িনি, ফের ফিরবই’ প্রত্যাবর্তনের শর্ত বেঁধে দিলেন মুজিব কন্যা

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির উত্তাল আবহে অবশেষে মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতির চাপে পড়ে দেশ ছাড়লেও তিনি মোটেও ভীত নন। বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলেই তিনি আবার নিজের প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, ইমারত ভাঙা সহজ হলেও বাঙালির হৃদয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলা অসম্ভব। দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি গত আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হাসিনা। মৌলবাদী শক্তির এই তাণ্ডবকে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর মতে, যারা বর্তমানে ক্ষমতার অলিন্দে ঘোরাফেরা করছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে চায়। তবে এই লড়াইয়ে শেষ হাসি ইতিহাসই হাসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। হাসিনা বলেন, আমার সোনার দেশে হালে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা পারলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও মুছে ফেলতে চায়। আমাদের ভবিষ্যৎকে সুষ্ঠু ও সুনিশ্চিত করতে যাঁরা এত বলিদান দিলেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করা, তৎসহ মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা, আমার চোখে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ। তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ কেবল কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা বস্তুর ওপর নির্ভর করে না; বরং তা সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার এক অবিনাশী দর্শন।

দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা সাফ জানান যে, তিনি প্রাণভয়ে পালাননি। সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কথায়, আমি কিন্তু ভয় পেয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসিনি। আমার জন্য লক্ষ লক্ষ নিরাপরাধ মানুষ যাতে বিপদে না পড়ে, এই শঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়েছিলাম দেশ ছাড়তে। বর্তমানে ভারতে আশ্রিত এই নেত্রী পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। তবে তাঁর এই ফেরা সরাসরি যুক্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একটি অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলেই তিনি ফিরবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বৈধ সরকার স্থাপিত হলে এবং বিচারবিভাগ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ফিরে পেলে, আমি অবশ্যই চাইব বাংলাদেশে ফিরে যেতে। জীবনের সবটুকু তো বাংলাদেশকেই দিয়েছি আমি। বাংলাদেশেরই সেবা করেছি।

বিপদের দিনে ভারতের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। ভারত সরকারের আতিথেয়তায় তিনি আপ্লুত। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। চরম বিপদের সময় ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, যে উষ্ণ আতিথেয়তা আমাকে দিয়েছে, সেজন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। গত ২০২৪ সালের আগস্টের সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর থেকে তিনি ভারতেই রয়েছেন। এর মাঝে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। সেই সময়েই বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জামাতপন্থীদের বিরুদ্ধে। এই সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিনা বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের মাটি থেকে একটি ইমারত বা স্মৃতিসৌধকে মুছে ফেলা সহজ, কিন্তু বাংলাদেশের আত্মায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষয় হয়ে থাকবে।

সাক্ষাৎকারের প্রতিটি ছত্রে ছিল হারানো জমি পুনরুদ্ধারের সংকল্প। হাসিনা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের নির্যাস এত সহজে ধুয়েমুছে সাফ করা যাবে না। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর গলার স্বরে ছিল স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ। গণতন্ত্রের পূর্ণ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফেরার পথ যে মসৃণ নয়, তা তিনি জানেন। তবুও বাংলাদেশের মানুষের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছাই বারবার ফুটে উঠেছে তাঁর বক্তব্যে। তিনি অপেক্ষায় আছেন সেই দিনটির, যখন বাংলাদেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

READ MORE.....