সরকারি কর্মচারীদের জন্য খুশির খবর শোনাল নবান্ন। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে অ্যাড-হক বোনাসের অঙ্ক ও বেতনের ঊর্ধ্বসীমা— দুই-ই বাড়িয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শুক্রবার অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে বোনাসের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৪০০ টাকা। গতবার এই অঙ্ক ছিল ৬,৮০০ টাকা। অর্থাৎ একধাক্কায় বোনাস বাড়ল ৬০০ টাকা। একইসঙ্গে বোনাস পাওয়ার যোগ্যতামান বা বেতনের ঊর্ধ্বসীমাও ২,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগে যাঁদের মাসিক বেতন ৪৪ হাজার টাকা ছিল তাঁরা বোনাস পেতেন, এবার ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনভুক্ত কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন। নবান্ন জানিয়েছে, ৩১ মার্চ ২০২৬-এর হিসেব অনুযায়ী যে সমস্ত কর্মীর সংশোধিত মাসিক বেতন ৪৬ হাজার টাকার মধ্যে এবং যাঁরা ‘প্রোডাক্টিভিটি লিঙ্কড বোনাস স্কিম’-এর আওতায় পড়েন না, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।
২০১৯ সালের রোপা নিয়ম মেনেই এই টাকা দেওয়া হবে। তবে মূল বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বা অন্যান্য ভর্তুকি এই হিসেবের মধ্যে ধরা হবে না। পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক লক্ষ কর্মী এই ঘোষণার সুফল পাবেন। যথারীতি মুসলিম কর্মীরা ইদের আগে এবং হিন্দু কর্মীরা দুর্গাপুজোর আগে এই টাকা হাতে পেয়ে যাবেন। নির্দিষ্ট শর্তে চুক্তিভিত্তিক ও ছ’মাস কাজ করা কর্মীরাও বোনাস পাবেন। এই ঘোষণা ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের দাবি, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন বলেই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল কটাক্ষ করে বলেন, ‘নির্বাচন আছে বলে এ বছর এত তাড়াতাড়ি বোনাসের বিজ্ঞপ্তি! এটা দেখে আবার কিছু লোক সবুজ আবির মেখে মিছিল না-বার করে। এই বোনাস গ্ৰুপ ডি ছাড়া আর কারও পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম।’ সরকারি মহলে এই বোনাস বৃদ্ধি নিয়ে স্বস্তি থাকলেও শিক্ষক সংগঠনের একাংশ একে নির্বাচনী গিমিক হিসেবেই দেখছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে বোনাস-অস্ত্রে মাস্টারস্ট্রোক দিল রাজ্য সরকার। ফাইল ফটো ।











