রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে। রবিবার নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার ঠিক পরেই রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের চিত্র সামনে এল। সোমবার সকালে নবান্নের তরফে আরও ৩০ জন ডব্লিউবিসিএস (এগ্জ়িকিউটিভ) আধিকারিককে বদলির নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে।
যদিও নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা আসলে গত ১৩ মার্চ তৈরি হয়েছিল, যা সোমবার প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে জনস্বার্থে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এই রদবদলের তালিকায় নজর কাড়ছে জেলাগুলিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক বা এডিএম পদের রদবদল। পর্যটন দফতর থেকে অনন্তচন্দ্র সরকারকে উত্তর দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক করা হয়েছে। মালদহ ডিভিশনের সহকারী কমিশনার পুষ্পক রায় এখন থেকে ওই জেলারই এডিএম পদের দায়িত্ব সামলাবেন।
একইভাবে, আইটি ও ইলেকট্রনিক্স দফতরের বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্যকে মুর্শিদাবাদের এডিএম এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সচিব সুদীপ্ত দাসকে নদিয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসকের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় জোড়া বদলি হয়েছে। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সচিব শুভলক্ষ্মী বসু এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের যুগ্ম সচিব ব্রিজিত সুচিতা কুজুরকে এই জেলার এডিএম পদে নিয়োগ করা হয়েছে। শুধু জেলা নয়, নবান্নের বিভিন্ন দফতরেও অভিজ্ঞ আধিকারিকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দীপাঞ্জন দে, কোয়েলি দাস, পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় এবং শৈবাল নন্দীর মতো আধিকারিকদের সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি বা যুগ্ম সচিব পদে আনা হয়েছে।
নবান্ন মনে করছে, তাঁদের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নির্বাচনের এই কঠিন সময়ে কাজে আসবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোট ঘোষণার আগে থেকেই এই পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। নির্বাচনী কাজ যাতে আরও মসৃণ ও দ্রুত হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। ‘জনস্বার্থে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতেই এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’, বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে নবান্নের প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতর। সোমবারের এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে এই ব্যাপক রদবদল আসলে প্রশাসনিক প্রস্তুতিকে আরও আঁটোসাটো করারই ইঙ্গিত।















