রাজনীতির ময়দান ছেড়ে এবার প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে কলম তুলে নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধতে ‘আমি অস্বীকার করি’ শীর্ষক একটি কবিতা লিখেছেন তিনি। কবিতার ছত্রে ছত্রে তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন বর্তমান শাসকের ‘অত্যাচার’ ও সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার খতিয়ান নিয়ে। রাজনীতির আঙিনা ছাপিয়ে জনমানসের ক্ষোভকে কাব্যিক রূপ দিয়ে অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন, এই লড়াই যেমন রাজপথে লড়া হবে, তেমনই লড়া হবে শব্দের লড়াইয়েও।
অভিষেক তাঁর কবিতার শুরুতেই শাসকের তৈরি ভয়ের বাতাবরণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি অস্বীকার করি – এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।/ আমি অস্বীকার করি – রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি – রক্তের উপর কালির শাসন।’ তাঁর এই শব্দচয়ন স্পষ্ট করে দেয় যে, তালিকার নামে সাধারণ মানুষের ওপর যে নিয়মাবলি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাকে তিনি সরাসরি অস্বীকার করছেন। প্রতিটি ছত্রে ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং মানুষের আর্তনাদ।
কবিতার মাধ্যমে অভিষেক একটি চাঞ্চল্যকর তথ্যও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার জাঁতাকলে পড়ে ইতিমধ্যেই ১৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তিনি। অভিষেক লিখেছেন, ‘এটা শুধু সংখ্যা নয়, এ রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।’ তাঁর মতে, রাষ্ট্র মানুষের প্রাণকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবেই দেখে। কবিতার একটি জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান/শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।’
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে সতর্ক করেছেন তৃণমূলের এই যুব নেতা। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইতিহাস কখনও কাউকে ক্ষমা করে না। তাঁর ভাষায়, ‘ইতিহাস মনে রাখে কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল/কে দাঁড়িয়েছিল, কে আগুন জ্বালিয়েছিল! যে মানুষকে তুচ্ছ করে ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বে এসআইআর-এর প্রতিবাদে ২৬টি কবিতা লিখেছিলেন। এবার সেই পথে হেঁটে অভিষেকও নিজের সৃষ্টিশীল সত্তাকে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলেন। শাসক দলের এই নতুন রণকৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে লড়াই আরও তীব্রতর হতে চলেছে। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি কলমের এই বিদ্রোহ রাজনীতির পারদকে একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।













