মাদক পাচারের অভিযোগ নিছকই বাহানা, আমেরিকার আসল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেলের ভাণ্ডার দখল করা। বৃহস্পতিবার দেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলোধনা করলেন ভেনেজুয়েলার নয়া অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারিত করার পর যাঁকে ওয়াশিংটন পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল, সেই রড্রিগেজের মুখেই এবার শোনা গেল কড়া সুর। তাঁর সাফ কথা, মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মার্কিন জ্বালানির ক্ষুধা মেটানোর একটি সুকৌশলী চাল মাত্র। ট্রাম্পের ‘দাদাগিরি’র সামনে মাথা নত না করার বার্তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভেনেজুয়েলার নতুন সরকার আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। এমনকি আগামী কয়েক বছর দেশটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই এদিন গর্জে ওঠেন রড্রিগেজ। পার্লামেন্টে নিজের প্রথম বক্তৃতায় তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল খনিজ সম্পদই আজ দেশের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরের দেশটির অর্থাৎ আমেরিকার সমস্ত নজর এখন এই সম্পদের ওপর। ভেনেজুয়েলার জ্বালানি শক্তির অধিকার রক্ষায় তাঁর সরকার যে আপসহীন, সেই বার্তাই এদিন দিয়েছেন নয়া প্রেসিডেন্ট।
উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে বুধবারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে যাওয়ার সময় দুটি রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যের ওপর আমেরিকার এই খবরদারি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না কারাকাস। রড্রিগেজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখতে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। একতরফা কোনো শর্ত বা আধিপত্য ভেনেজুয়েলা বরদাস্ত করবে না। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের চাবিকাঠি যে কোনো বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে না, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
মাদুরো জমানার তিক্ততা ভুলে একটি স্বচ্ছ বাণিজ্যিক চুক্তির পথ খোলা রাখার কথা বললেও সুর নরম করেননি রড্রিগেজ। তাঁর মতে, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা নার্কো-টেররিজমের দোহাই দিয়ে আসলে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে চাইছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী নীতির সমালোচনা করে তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক লাভ নিশ্চিত হলেই কেবল জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্ভব। তেলের ভাণ্ডার নিয়ে ট্রাম্পের ছিনিমিনি খেলার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রড্রিগেজের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।












