যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে থেকে সিসিটিভি বসানো ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের কাজ শুরু হবে, তার সময়সীমা এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়কে হলফনামা আকারে এই তথ্য জমা দিতে হবে। শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
আদালত জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আর বিলম্ব করা যাবে না। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন, কারণ অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তী শুনানি হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সিসিটিভি লাগানো ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের জন্য রাজ্যের অর্থদপ্তর ইতিমধ্যেই ৬৭ লক্ষ টাকার বেশি বরাদ্দ করেছে। অর্থ মঞ্জুর হলেও বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। ফলে হাইকোর্ট সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসনকে হলফনামা দিতে বলেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি বসানো নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়।
২০১০ সালে উপাচার্য প্রদীপনারায়ণ ঘোষের সময়ে প্রথমবার ক্যামেরা বসানো শুরু হয়। কিন্তু ছাত্রদের প্রবল বিরোধিতায় ৫২ ঘণ্টা ঘেরাওয়ের পর সেই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৩ সালে উপাচার্য সৌভিক ভট্টাচার্য আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালে উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী নতুন করে অরবিন্দ ভবনের দফতরে সিসিটিভি বসালে তারও তীব্র বিরোধিতা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল ছাত্র আন্দোলন ‘হোক কলরব’। এই পটভূমিতেই বর্তমান মামলাটির গুরুত্ব বেশি বলে মনে করছে আদালত। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছেন, আদালতের এই নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের দিকেই বড় পদক্ষেপ হতে পারে।















