রাইসিনা হিলের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত এবার পৌঁছল জলখাবারের টেবিলে। সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রাতরাশের আমন্ত্রণ সটান ফিরিয়ে দিল তৃণমূল। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ধর্মীয় ভাবাবেগকে ঢাল করেছে জোড়াফুল শিবির। রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক সাফ জানিয়েছেন, রমজান মাস চলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের উপবাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তাঁরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।
আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনায় কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে নতুন করে তিক্ততা বাড়ল। মাত্র একদিন আগেই আদিবাসী উন্নয়নে রাজ্য সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে তৃণমূল সাংসদদের সাক্ষাতের আর্জি খারিজ করেছিল রাষ্ট্রপতি ভবন। তার পাল্টা হিসেবেই কি এই বয়কট? রাজনৈতিক মহলে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিতর্কের সূত্রপাত, গত শনিবার রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর থেকে। বিধাননগরে অনুষ্ঠানস্থল বদল এবং নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দ্রৌপদী মুর্মু।
তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে তোপ দেগেছিলেন তিনি। বিজেপি একে ‘পরিকল্পিত অপমান’ বললেও মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা গর্জে উঠে দাবি করেন, ‘বিজেপির কথায় চলছেন রাষ্ট্রপতি’। কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি বলেও জানান তিনি। এরপরই নবান্নের তরফে রাজ্যের জনজাতি কল্যাণের খতিয়ান দিতে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চাওয়া হয়েছিল, যা ফিরিয়ে দেয় রাইসিনা হিল। সেই টানাপড়েনের জেরেই এবার প্রাতরাশের নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে সংঘাতের সুর আরও চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।














