Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

শেষমেষ আর্জি খারিজ নবান্নের, অনড় কমিশন ভিন রাজ্যে যেতে হবে স্বরাষ্ট্রসচিব সহ দুই সিপি-কে

শেষমেষ আর্জি খারিজ নবান্নের, অনড় কমিশন ভিন রাজ্যে যেতে হবে স্বরাষ্ট্রসচিব সহ দুই সিপি-কে

শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হল রাজ্যকেই। নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থানের জেরে ভিন রাজ্যে ভোট পর্যবেক্ষকের (এসআইআর) দায়িত্ব পালনে যেতেই হচ্ছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ দুই পুলিশ কমিশনারকে। বুধবার ই-মেল মারফত কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ১০ জন আইপিএস ও ১৫ জন আইএএস আধিকারিককে নিয়ে তারা যে তালিকা তৈরি করেছিল, তাতে কোনও বদল করা হবে না। ফলে নবান্নের পাঠানো বিকল্প তালিকার আর্জি খারিজ হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার থেকেই দিল্লিতে শুরু হচ্ছে এই পর্যবেক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ।

বাংলার নির্বাচন দোরগোড়ায়। এই আবহে রাজ্যের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের ভিন রাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত এখন চরমে। কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলার ২৫ জন সিনিয়র অফিসারের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব, তেমনই রয়েছেন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমলা। তালিকায় নাম আছে উলগানাথান, সঞ্জয় বানশাল ও শুভাঞ্জন দাসেরও। নবান্ন চেয়েছিল, স্বরাষ্ট্রসচিব বা পুলিশ কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বদলে অন্য নাম গ্রহণ করা হোক। কিন্তু বুধবারের বার্তার পর সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ।

প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনা একপ্রকার নজিরবিহীন। সাধারণত ভোটমুখী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব কিংবা কর্মরত পুলিশ কমিশনারদের অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নজির খুব একটা দেখা যায় না। রাজ্য সরকার যুক্তি দিয়েছিল, অত্যন্ত সিনিয়র এই আধিকারিকরা রাজ্যের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। সেই মর্মে ১৭ জন আধিকারিকের অব্যাহতি চেয়ে বিকল্প নামের তালিকা পাঠিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, পুরনো তালিকাই বহাল থাকবে।

কমিশনের অভিযোগ, বারবার আধিকারিকদের নামের তালিকা চাওয়া হলেও রাজ্যের তরফে সময়মতো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই কমিশন নিজে থেকে এই তালিকা তৈরি করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং বৈঠক হবে। সেখানে বাংলার এই ২৫ জন আধিকারিককে উপস্থিত থাকতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যাতে কোনও সংশয় না থাকে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত এই সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই টানাপোড়েন আসলে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যকার ঠান্ডা লড়াইয়েরই বহিঃপ্রকাশ। ভোটের মুখে স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আধিকারিককে ভিন রাজ্যে সরানোর কমিশনের এই জেদ প্রশাসনিক সদিচ্ছার চেয়েও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ে দিল্লির বৈঠকে এই আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকরা যোগ দেন কি না। এই পুরো ঘটনায় নবান্ন ও দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

READ MORE.....