মানুষের রায় মেলেনি ব্যালটে। এবার শীর্ষ আদালতের দরবারেও খালি হাতে ফিরতে হলো প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টিকে। বিহারের বিধানসভা নির্বাচন বাতিলের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল তারা। কিন্তু সেই আবেদন শোনা তো দূর অস্ত, উল্টে প্রচার পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কড়া ভাষায় জন সুরাজকে ভর্ৎসনা করল আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মানুষ প্রত্যাখ্যান করার পর স্রেফ প্রচারের আলোয় আসতেই এই মামলা করা হয়েছে। শেষমেশ পিকে-র দলের আর্জি শুনতে অস্বীকার করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল পরাজয়ের ক্ষত এখনও টাটকা। তার মধ্যেই নীতীশ কুমারের সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন ভোটকুশলী পিকে। নতুন করে ভোট করানোর জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার শীর্ষ আদালতের শুনানিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে যায়। জন সুরাজ পার্টির আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন করেন, ‘আপনার দল কটা ভোট পেয়েছে? মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আর আপনারা আদালতকে ব্যবহার করে প্রচার পেতে চাইছেন?’ প্রধান বিচারপতির এই সরাসরি তোপে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে পিকের দল।
আদালত কক্ষের মেজাজ এদিন ছিল বেশ চড়া। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে পিকের দল প্রশ্ন তুললে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পাল্টা কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় এলে একই কাজ করবেন।’ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে আইনি পথে হাই কোর্টে যাওয়া উচিত ছিল। কেন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসা হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতিরা। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘কেন হাই কোর্টে গেলেন না? রাজ্যে একটা হাই কোর্ট আছে। সেখানে যান।’ রাজ্যের সাংবিধানিক পরিকাঠামোকে এড়িয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসার এই প্রবণতাকে একেবারেই ভালো চোখে দেখেনি আদালত।
জন সুরাজ পার্টির মূল অভিযোগ ছিল নীতীশ সরকারের জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা নিয়ে। তাদের দাবি, বিহারে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ হয়ে যাওয়ার পরেও সরকার প্রতিটি পরিবারের মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। পিকের আইনজীবীদের মতে, এর ফলে ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। কিন্তু শীর্ষ আদালত এই যুক্তিতে আমল দিতে নারাজ। বরং ভোট শতাংশের নিরিখে জন সুরাজের করুণ দশার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে বিচারপতির বেঞ্চ। প্রচার পাওয়ার কৌশল হিসেবে আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, বিহারের মোট ২৩৮টি আসনেই প্রার্থী নামিয়েছিল প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি। নির্বাচনের আগে জন সুরাজকে ঘিরে প্রচার ও উন্মাদনা থাকলেও ইভিএম খোলার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ২৩৮টি আসনের একটিতেও জয় পায়নি তারা। প্রাপ্ত ভোটের হার মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ। এই শোচনীয় ফলের পর আদালতের এই পর্যবেক্ষণ পিকের দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বিহারের রাজনীতিতে জমি পাওয়ার লড়াইয়ে আদালতের এই কড়া মন্তব্য জন সুরাজের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












