বয়স মাত্র ১২ বছর পার করেছে সবে, এরই মধ্যেই তার কীর্তিতে হতবাক এলাকার মানুষ থেকে পরিবারের লোকজন। বর্তমান যুগে এখন বেশিরভাগ ছোট-ছোট বাচ্চাদের হাতে স্মার্ট ফোন দেখতে পাওয়া যায়। যারা ফোনে গেম খেলতে ব্যস্ত। আর তাই খেলার মাঠগুলি ফাঁকা পড়ে থাকে ইদানিং। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মাত্র ১২-১৩ বছর বয়সের বালক নিজেই তৈরি করেছে মন্ডপ, মূর্তি আবার নিজেই পুরোহিত। মন্ত্র উচ্চারণ করে করছে পুজো। যা দেখে হতবাক এলাকার মানুষজন।
খুব ছোটবেলা থেকেই সে এই কাজ করছে বলে দাবি অভিভাবকদের। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। উৎসবের চারটি দিনের জন্য বছরভর অপেক্ষায় থাকে আপামর বাঙালি। বনেদি বাড়ীর পুজোর পাশাপাশি এখন থিম পুজোর ছড়াছড়ি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে এখন প্রবেশ ঘটেছে কর্পোরেট দুনিয়ারও। ফলে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে এরই পাশাপাশি আছে দু’একটি ব্যতিক্রমী পূজোও। যা আলাদাভাবে নজর কাড়ে ভক্তদের। এরকমই একটি পুজো ঘিরে এবার হইচই পড়েছে উখরা গ্রামের মুখার্জি পাড়াতে। এই পুজোটির আয়োজক ১২-১৩ বছরের বালক সৌরিশ ব্যানার্জি। মন্ডপ, প্রতিমা নিজের হাতে তৈরীর পাশাপাশি পুজোটির পুরোহিতও সে নিজে। উখড়া গ্রামের মহন্ত অস্থল পাড়া থেকে মুখার্জি পাড়া যাওয়ার রাস্তায় ডান হাতে সৌরিশদের বাড়ি। বাবা রঞ্জন ব্যানার্জি ইসিএল কর্মী, মা শুক্লা ব্যানার্জি গৃহবধূ।
সৌরিশের পড়াশুনা এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে। শিশু বয়স থেকে পড়াশুনোর পাশাপাশি তার সমান আগ্রহ রয়েছে প্রতিমা তৈরি ও পূজোপাটে। বছর পাঁচেক আগে থেকে সে বাড়িতেই শুরু করেছে নিজের তৈরি কালি ও দুর্গা পূজার আয়োজন। এবার সে তৈরি করেছে এক ফুটের কাগজের সপরিবার দুর্গা প্রতিমা। বাড়ির ছাদে কাপড় ও প্লাইউড দিয়ে মন্ডপ বানিয়ে সেখানেই হয়েছে পুজোর আয়োজন। ষষ্ঠীর দিন থেকে শুরু হবে শাস্ত্র মতে পুজো। প্রতিমা, মন্ডপের শিল্পীর পাশাপাশি এই পুজোর পুরোহিতও সে নিজে। প্রাপ্তবয়স্ক অভিজ্ঞ পুরোহিতের মতো সে সাবলীন ভাবে মন্ত্র উচ্চারণ করে নিজেই করে পুজো। বিস্ময়কর বালকের এই পুজো দেখতে ভিড় জমায় এলাকার মানুষজন। সৌরিশ জানাই খুব ছোটবেলা থেকেই তার প্রতিমা তৈরি করার প্রতি ঝোক তৈরি হয়। এই কাজে তাকে উৎসাহিত করতো ঠাকুমা।
ঠাকুমার এনে দেওয়া মাটি দিয়ে সে তৈরি করত কালি, দুর্গার মূর্তি। সম্প্রতি ঠাকুমা গত হয়েছেন। সেই কারণে মাটির পরিবর্তে এবার কাগজ দিয়ে সপরিবার দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছে বলে জানাই সৌরিশ। বিস্ময়কর বালক সৌরিশের স্বপ্ন বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়া। তবে পুজোপাঠ চালিয়ে যেতে চাইছে। আরজি কর মেডিকেল কলেজে সম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েও সে ওয়াকিবহাল। সৌরিশের জেঠু প্রাক্তন ইসিএল কর্মী চন্দন বন্দোপাধ্যায় বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি পুজোপাটেও সমান আগ্রহ রয়েছে সৌরিশের। আমরা তাকে সব কাজে উৎসাহ দি। সে নিজের মতো করে বড় হোক বলে জানান তিনি।















