Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

মমতার পাশে দাঁড়াক অন্য মুখ্যমন্ত্রীরাও, বঙ্গভবনে পুলিশি অভিযানে সরব বিমান

মমতার পাশে দাঁড়াক অন্য মুখ্যমন্ত্রীরাও, বঙ্গভবনে পুলিশি অভিযানে সরব বিমান

দিল্লির বঙ্গভবনে ‘পুলিশি অতিসক্রিয়তা’ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণের তীব্র নিন্দা করলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিধানসভায় নিজের কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেন। স্পিকারের স্পষ্ট পরামর্শ, এই সংকটকালে দেশের অন্যান্য রাজ্যের, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের উচিত দিল্লি গিয়ে মমতার পাশে দাঁড়ানো। একমাত্র এই সংহতির মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন তিনি।

চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেওয়া এবং বিনা অনুমতিতে দিল্লি পুলিশের তল্লাশি অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। এবার সেই প্রতিবাদের সুরেই সুর মেলালেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, ‘আশেপাশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের দিল্লি যাওয়া উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাহলেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোটার মর্যাদা পাবে। যাঁরা এই ধরনের কাজ করছেন, সেই ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা করছি।’

একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী যখন দেশের রাজধানীতে অবস্থান করছেন, তখন তাঁর থাকার জায়গায় পুলিশের এই আচরণকে নজিরবিহীন ও শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মনে করছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। বঙ্গভবনে কেন পুলিশ ঢুকবে, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমি তো বুঝতে পারছি না, বঙ্গভবনে পুলিশ ঢুকবেই বা কেন? যাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা তো চোর-ডাকাত নন। তাঁদের আত্মীয়-পরিজন মারা গিয়েছেন, তাঁরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁরা কি দিল্লিতে যেতে পারেন না? দিল্লি কি খালি বড়লোকদের জন্য নাকি?’

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য থেকে যাওয়া দুর্গত মানুষদের যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দিল্লির বুকে একজন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বদলে তাঁর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সিসিটিভি নিষ্ক্রিয় করে পুলিশের তল্লাশিকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনা কি নিছক বাঙালি বিদ্বেষ? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে স্পিকার অবশ্য সরাসরি রাজনৈতিক কারণকেই দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং সেখানে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি কেন্দ্রের শাসক দলকে চরম চাপে ফেলে দিয়েছে। কেন্দ্র সরকার যে একপ্রকার ভয় থেকেই এই ধরনের আচরণ করছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বিধানসভার অধ্যক্ষের কথায়, ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছেন, সেটা ওরা সহ্য করতে পারছে না। ওরা বুঝতে পেরেছে যে ওদের গদি এবার টলমল হল।’

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর পর থেকেই বঙ্গভবন চত্বরে চরম উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, বাংলা থেকে যাওয়া বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাঁরা বঙ্গভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের দিল্লি পুলিশ গিয়ে চরম হেনস্তা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। একটি সরকারি অতিথিশালায় পুলিশ পাঠিয়ে কৃত্রিমভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে তোপ দেগেছেন তিনি। বিমানের এই বক্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল।

READ MORE.....