Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

মার্কিন মুলুকে সস্তা হচ্ছে ভারতীয় চামড়া বিপুল লাভের আশায় বুক বাঁধছে বাংলা

মার্কিন মুলুকে সস্তা হচ্ছে ভারতীয় চামড়া বিপুল লাভের আশায় বুক বাঁধছে বাংলা

মার্কিন মুলুকে এবার অনেক সস্তায় মিলবে ভারতের চামড়াজাত পণ্য ও জুতো। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির হাত ধরে দীর্ঘদিনের শুল্ক বৈষম্যের অবসান ঘটতে চলেছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের শ্রম-নিবিড় শিল্পগুলিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে শিল্প সংস্থাগুলি একে ‘সময়োপযোগী পুনর্গঠন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এর ফলে বিশ্ববাজারে ভারতের রফতানি প্রতিযোগিতা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

এতদিন ভারতীয় চামড়াজাত পণ্য ও জুতোর ওপর আমেরিকায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো ছিল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল পারস্পরিক শুল্ক এবং বাকি ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির কারণে আরোপিত অতিরিক্ত মাশুল। নতুন চুক্তির ফলে এই মোট শুল্ক কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১৮ শতাংশে। ইন্ডিয়ান লেদার প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন (আই.এল.পি.এ )-এর মতে, ভারতের বৃহত্তম রফতানি বাজারে এই পরিবর্তন এক বৈপ্লবিক মোড় ঘুরিয়ে দেবে। চামড়া ও জুতো শিল্পের পাশাপাশি বাংলার পাট শিল্পও এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে ‘দূরদর্শী চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইএলপিএ-র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আজহার। তাঁর মতে, ভারতীয় রফতানিকারীরা বছরের পর বছর ধরে শুল্ক বৈষম্যের শিকার হচ্ছিলেন। প্রতিকূল বাজারে লড়াই করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চুক্তি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আজহার বলেন, ‘১৮ শতাংশে শুল্ক হ্রাস প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করবে এবং ভারতকে বিশ্বের প্রধান প্রতিযোগীদের সঙ্গে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে স্থাপন করবে।’ তিনি স্পষ্ট জানান যে, ভারতের রফতানি এতদিন কম ছিল সক্ষমতা বা সম্মতির অভাবে নয়, বরং মূলত শুল্কের অসাম্যের কারণেই তা ব্যাহত হচ্ছিল।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে আমেরিকায় ভারতের চামড়া ও জুতো রফতানির পরিমাণ ছিল ১.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১৩.৫ শতাংশ হলেও বিশ্ববাজারের নিরিখে ভারতের অংশীদারিত্ব ছিল মাত্র ২.৯ শতাংশ। এর ফলে ভারত সপ্তম বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে তালিকায় ছিল। তবে ২০২৪ সালে আমেরিকার ৪৩.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আমদানির বাজারের দিকে তাকালে ভারতের এই নতুন সুযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রফতানি বাড়লে দেশের ভেতরে বিশেষ করে নারী ও দক্ষ কারিগরদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশাবাদী শিল্পপতিরা।

ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি)-এর ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব সিং এই চুক্তিকে ‘সব চুক্তির সেরা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা ভারতীয় শিল্পের ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। গত এক বছর ধরে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে এই আলোচনা পরিচালনার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলের প্রশংসা করেছেন। রাজীব সিং বলেন, ‘আমরা সবেমাত্র একটি অসাধারণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছি, এবং এটিকে নিঃসন্দেহে সব চুক্তির সেরা বলা যেতে পারে। ’ মার্কিন ক্রেতারা এখন ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য ও গণতান্ত্রিক অংশীদার হিসেবে দেখছেন, যা রফতানিকারীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

READ MORE.....