Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

পাইপলাইনে বাড়তি তেলের আবদার, ঢাকার আর্জি খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি

পাইপলাইনে বাড়তি তেলের আবদার, ঢাকার আর্জি খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি

উত্তাল পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধের দামামা বাজতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মেঘ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে আরও বেশি পরিমাণ তেল চেয়ে বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি পাঠাল তারেক রহমানের সরকার। চুক্তির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত এই জ্বালানি জোগানের আর্জি জানানো হয়েছে ঢাকার তরফে। পরিস্থিতি বিচার করে নয়াদিল্লি অবশ্য এখনও এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়নি।

 

তবে পড়শি দেশের আবদারে সাড়া দিয়ে চুক্তির অন্তর্গত ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত মঙ্গলবারই পাকা করেছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ভারতের কপালে সামান্য চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ঠিকই, তবে মোদী সরকার সাফ জানিয়েছে যে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বস্ত করে বলেছে, দেশের বাজারে খনিজ তেল ও রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই উদ্বেগের মাত্রা আরও বেশি।

 

ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল কেনে ঢাকা। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর কথা। সেই সরবরাহ বজায় থাকলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখন থেকেই মজুত বাড়াতে চাইছে ঢাকা। ভারতকে পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কতটা বাড়বে, তা ভারতই ঠিক করবে।’ সূত্রের খবর, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয়কুমার বর্মার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত এক বৈঠকের পরই এই চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

 

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা।জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ভারত নয়, পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে ঢাকা। বুধবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ফোনে কথা বলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে। যুদ্ধের বাজারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। হাসিনার বিদায়ের পর পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার সখ্যতা যে বাড়ছে, এই ফোনালাপ তারই প্রমাণ। তবে আপৎকালীন বিপদে পুরোনো বন্ধু ভারতের ওপরেই বেশি ভরসা রাখছে বাংলাদেশ। এখন দেখার, নিজেদের ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা সরিয়ে নয়াদিল্লি তারেকের এই ‘এক্সট্রা’ তেলের আবদার মেটায় কি না।

READ MORE.....