জনগণনার আগে তথ্য সংগ্রহে প্রযুক্তির ব্যবহার যে বড় পরিসরে সাড়া ফেলেছে, রবিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে তারই পরিসংখ্যান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ‘সেলফ এনিউমারেশন’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৯৩.৮৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি কোথাও সমস্যা বা অভিযোগ উঠলে তা পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। ‘সেলফ এনিউমারেশন’-এর মূল উদ্দেশ্য, জনগণনার জন্য প্রয়োজনীয় পারিবারিক তথ্য নাগরিকেরাই নিজেরা নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থায় জমা দেবেন। এতে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রশাসনিক চাপ কমার পাশাপাশি দ্রুত তথ্য সংকলনের সুযোগ তৈরি হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ায় তার কার্যকারিতার একটি প্রাথমিক ছবি মিলেছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
তবে রবিবারের বৈঠকে একটি অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠতেই অন্য দিকটি সামনে আসে। কোনও নাগরিক তথ্য নথিভুক্ত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে, অথবা জমা দেওয়া তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে কী হবে—সেই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনগণনার ক্ষেত্রে শুধু অংশগ্রহণের হার বেশি হলেই প্রক্রিয়া সফল বলা যায় না। ৯৩.৮৪ শতাংশ মানুষ তথ্য জমা দিয়ে থাকলেও বাকি অংশকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ইতিমধ্যে সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা—দুই কাজই এখন প্রশাসনের সামনে। কোথাও ভুল তথ্য ঢুকেছে কি না, কোনও পরিবার বাদ পড়েছে কি না, কিংবা তথ্য জমা দেওয়ার সময় প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছে কি না, সেগুলিও নজরে রাখতে হবে। জনগণনার ফলাফল ভবিষ্যতের প্রশাসনিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
জনসংখ্যার হিসাব ছাড়াও সরকারি পরিষেবা, উন্নয়ন প্রকল্প, পরিকাঠামো পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তে এই তথ্য ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও ভুল থেকে গেলে তার প্রভাব পরবর্তী পরিকল্পনাতেও পড়তে পারে। সেই কারণেই সেলফ এনিউমারেশনের ৯৩.৮৪ শতাংশ সাফল্য প্রশাসনের কাছে স্বস্তির পরিসংখ্যান হলেও, এখন নজর থাকবে যাচাই-পর্বে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়াতেই প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি সামনে আনল।














