বিগত এক দশকে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটেছে এবং এর ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা পঁচিশ কোটি থেকে বেড়ে একশত কোটিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের আশিতম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালের আগে দেশের মাত্র পঁচিশ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার আওতাভুক্ত ছিলেন, যা গত দশ বছরে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে একশত কোটিতে উন্নীত হয়েছে। একটি উন্নত বা বিকশিত ভারত গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য তখনই পূরণ হবে যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রান্তিকতম ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে।
সাধারণ মানুষের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুফলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত যোজনার বিশেষ উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের আওতায় সত্তর বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান এবং উদ্যোগপতি হওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। স্টার্টআপ ইন্ডিয়া কর্মসূচির হাত ধরে দেশ আজ আড়াই লক্ষের বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ তৈরির মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা যুব সম্প্রদায়কে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে এক লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ উদ্ভাবনী তহবিল, স্কিল ইন্ডিয়া এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোগপতি হওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মহাকাশ এবং বিমান চলাচল ক্ষেত্রের সার্বিক উদারীকরণ ও জাতীয় ড্রোন নীতি যুবসমাজের কর্মক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করেছে। দেশে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ, বিমান রুটের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বিমান তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পের বিকাশ দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল যেন সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের কাছে নির্বিশেষে পৌঁছে যায়, সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকারের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।














